Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

আলোচনাই করল না মোদি সরকার, আজ ফের দিল্লি অভিযান কৃষকদের

আলোচনাই করল না মোদি সরকার, আজ ফের দিল্লি অভিযান কৃষকদের
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিজেপি সরকার কোনও আলোচনাই চায় না। রবিবার ফের দিল্লি চলো অভিযান হবেই। শনিবার পাঞ্জাব-হরিয়ানার শম্ভু সীমানায় এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষক নেতা এস এস পান্ধের। আর তাঁর এহেন হুঁশিয়ারিতে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, কেন্দ্রের মোদি সরকার বিরোধী অবস্থানে আর নরমপন্থার কোনওরকম স্থান রাখতে চাইছেন না আন্দোলনকারীরা। এর অর্থ, আবার কেন্দ্র-কৃষক সংঘাত অবশ্যম্ভাবী। 
Advertisement
শুক্রবার পাঞ্জাব-হরিয়ানার শম্ভু সীমানা থেকে দিল্লি চলো কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু হরিয়ানা পুলিস তাঁদের সীমানা ছেড়ে নড়তেই দেয়নি। কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয় কৃষকদের লক্ষ্য করে। চলে লাঠিও। এরপরই কৃষক নেতা এস এস পান্ধের জানিয়েছিলেন, সরকারের এই আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। শনিবার দিনটি দেখা হবে। সরকার যদি আলোচনা করে, তাহলে কৃষকরাও সহযোগিতা করবেন। নাহলে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিন শম্ভু সীমানায় আন্দোলনকারীরা সেইমতোই সাফ জানিয়েছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে, একটি গোটা দিন কেটে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা করতে চেয়ে কোনও বার্তা আসেনি। এর থেকেই স্পষ্ট যে, বিজেপি সরকার কোনওরকম আলোচনায় আগ্রহী নয়। ফলে কৃষকরা আর অপেক্ষা করবেন না। ঘোষণামতোই রবিবার ফের দিল্লিতে প্রবেশের চেষ্টা হবে। বিজেপির পুলিস যা পারে করুক। কার্যত এমনই চ্যালেঞ্জ শনিবার হরিয়ানা সরকারের উদ্দেশে ছুড়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারী কৃষক নেতারা। 
তাঁদের অভিযোগ, শুক্রবার পুলিসের ‘হামলা’য় ১৬ জন কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন। কাঁদানে গ্যাসের শেল ফেটে একজন আন্দোলনকারীর কানের পর্দা ফেটে গিয়েছে। আমরা যেন কুখ্যাত আন্তর্জাতিক জঙ্গি। বিজেপি সরকার তেমনই আচরণ করছে। শম্ভু সীমানার পাশাপাশিই উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে পাঞ্জাব-হরিয়ানার আর এক সীমানা খানাউরি। সেখানে বিগত কয়েকদিন ধরেই আমরণ অনশন শুরু করেছেন বর্ষীয়ান কৃষক নেতা জগজিৎসিং দাল্লেওয়াল। এই কৃষক নেতাকেই সীমানা এলাকার অস্থায়ী ঘর ভেঙে রাতের অন্ধকারে পুলিস একপ্রকার তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। ছাড়া পেয়ে ওই একই জায়গাতে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন দাল্লেওয়াল। আন্দোলনকারী কৃষক নেতাদের অভিযোগ, অনশনের কারণে তাঁর প্রায় আট কেজি ওজন কমে গিয়েছে। অথচ পুলিসি অত্যাচারের কোনও কমতি নেই। একজন বর্ষীয়ান কৃষককেই যে সরকার ছাড়ছে না, তারা অন্যদের প্রতি কীভাবে সদয় হবে? প্রশ্ন ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের।
সম্পর্কিত সংবাদ