মেলবোর্নে: অস্ট্রেলিয়ার ঝাঁ চকচকে শহর মেলবোর্ন। মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে ইয়ারা নদী। বিশাল রয়্যাল এক্সিবিশন বিল্ডিংয়ের পেল্লাই বাগান গিয়ে মিশেছে তার পাড়ে। এক কথায় মন ভালো করে দেওয়া পরিবেশ। সোমবার সেই বাগানে বসন্তের হাওয়া বয়ে আনলেন কার্লোস আলকারাজ। কালো পোশাকের সঙ্গে মানানসই কালো লোফার জুতো। হাতে বহু প্রতীক্ষিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ট্রফি। হাসি মুখে চিত্রসাংবাদিকদের পোজ দিয়ে গেলেন স্প্যানিশ তারকা। আর সেই বিশেষ মুহূর্তে বন্ধ রাখা হল ইয়ারায় ফেরি সার্ভিস। পাছে ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানিতে দিগভ্রান্ত হয়ে পড়েন জলযানের চালকরা!
রবিবার মেলবোর্ন পার্কের রড লেভার এরিনায় ঠিক যেমনটা হয়েছিল নোভাক জকোভিচের সঙ্গে। আলকারাজের তারুণ্যের দাপটে পথ হারিয়েছিলেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি। প্রথম সেটে জোকারের ছন্দ দেখে মনে হয়েছিল ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু দ্বিতীয় সেটেই আলকারাজ জানান দিলেন, ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়।’ টানা তিন সেটে স্প্যানিশ যুবকের ঝলকানিতে নাস্তানাবুদ হন জোকার। তিন ঘণ্টার লড়াইয়ে ৩৮ বছরের মহারথীকে ধরাশায়ী করে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের স্বাদ পান আলকারাজ। মাত্র ২২ বছর বয়েসে চারটি মেজর টুর্নামেন্টের খেতাব ঘরে তুললেন আলকারাজ। গড়লেন কনিষ্ঠতম হিসেবে কেরিয়ার স্ল্যাম পূর্ণ করার রেকর্ড। ফরাসি ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেনে দু’বার করে খেতাব জিতলেও এতদিন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ছিল অধরা। গতবছর এই আসরে দুরন্ত ছন্দে শুরু করেও শেষ আটে জোকারের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। রবিবার শিরোপা নির্ণায়ক ম্যাচে তারই মধুর প্রতিশোধ নেন আলকারাজ। তাই এই জয়কে ‘স্পেশাল’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। অজি মুলুকে ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে পায়ে ক্যাঙারুর ট্যাটু করানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন স্প্যানিশ তারকা। কারণ অস্ট্রেলিয়া যে ক্যাঙারুর দেশ। ঠিক যেমন ২০২৫ ইউএস ওপেন জয়ের পর বাঁ হাতের বাহুতে স্ট্যাচু অব লিবার্টির ট্যাটু আঁকিয়ে ছিলেন তিনি।
রড লেভার এরিনায় ফাইনালের মঞ্চে শিষ্য ‘আলকা’র রাজ দাপট তারিয়ে উপোভোগ করতে দেখা গিয়েছে রাফায়েল নাদালকে। তবে প্রাক্তন স্প্যানিশ তারকার কাকা ও কোচ টনি নাদাল আবার এই জয়ে একেবারেই উচ্ছ্বসিত নন। বরং আলকারাজকে ‘লাকি’ বলে মনে করছেন তিনি। টনির ব্যাখ্যা, ‘অ্যান্ডি মারে, হুয়ান পেড্রো বা স্ট্যান ওয়ারিংকার বিরুদ্ধে খেলতে হয় না ওকে। তাই আলকারাজকে এত ধারাবাহিক মনে হচ্ছে।’