Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আলুবীজ ও সারের দামের উপর  রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ চায় কৃষক মহল

আলুবীজ ও সারের দামের উপর  রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ চায় কৃষক মহল
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: আলুবীজ বিক্রি হচ্ছে বস্তা প্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা দরে। আলুবীজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে পাঞ্জাব। এতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। বাজারে খাবার আলুর দামের মতোই নিয়ন্ত্রিত হোক বীজের আলু ও সারের দাম। দাবি চাষিদের।
Advertisement
শনিবার হরিপালে বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণের বৈঠকে এসে কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না সাংবাদিকদের জানান, আলুর বীজের জন্য পাঞ্জাবসহ অন্য কয়েকটি রাজ্যের উপর আমরা সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। এতে আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে চাষিদের প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের তরফে আলুবীজ তৈরির চেষ্টা ধীরে ধীরে চলছে। আগামী বছর থেকে বেশি পরিমাণে বীজ উৎপাদনের উপর নজর দেবে রাজ্য। একইসঙ্গে সারের কালোবাজারি নিয়ে অভিযোগ পেলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একবস্তা চন্দ্রমুখী আলুবীজ বিক্রি হচ্ছে চার হাজার টাকায়। সেখানে জ্যোতি আলুবীজের দাম তিন হাজার টাকা। প্রায় পাঁচবছর আগেই রাজ্যের তৈরি আলুবীজের স্বপ্ন দেখেছিলেন চাষিরা। দেশের মধ্যে অন্যতম প্রধান আলু উৎপাদনকারী রাজ্য বাংলা। তবু এখানে আলুবীজ উৎপাদনের পরিকাঠামো এখনও তৈরি হয়নি। ফলে পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যের উপর বাংলার চাষিদের বিশেষভাবে নির্ভর করতে হয়। আর এই মওকায় মুনাফা লুটছে একশ্রেণির আসাধু বীজ ব্যবসায়ী।
চাষিদের অভিযোগ, খুচরো বাজারে আলুর দাম বাড়লেই নজর পড়ে প্রশাসনের। অথচ বীজ আলুর নিয়ন্ত্রণে কোনও পরিকল্পনা নেই। আলুবীজ ব্যবসায় বহু নেতা অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। ফলে বীজের দাম নিয়ন্ত্রণে আগ্রহ নেই তাঁদের। ওইসঙ্গে রয়েছে সারের কালোবাজারি। এই দুই ধাক্কায় পড়ে আলুচাষের খরচ বেড়ে বহুগুণ হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলির প্রাকৃতিক দুর্যোগও আলুচাষিদের চিন্তা বাড়িয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে এবছর আলুচাষ অনেকটাই দেরিতে শুরু হয়। সময়মতো পর্যাপ্ত শীত পড়েনি। এই পরিস্থিতি চন্দ্রমুখী আলুর অনুকূল পরিবেশ নয় বলেই মনে করেন চাষিরা।
তারকেশ্বর সন্তোষপুরের চাষি প্রভাত সিংহ রায় জানান, চাষি যখন কাঁচামাল কিনছেন সেই বাজার সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে না। অথচ চাষির উৎপাদিত ফসলের দাম বাড়লে বাজারে গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। এবছর বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) আলুবীজের দাম গতবছরের চেয়ে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের সারের নির্ধারিত দাম ১,৪৭০ টাকা। কিন্তু চাষির কাছ থেকে তার দাম নেওয়া হচ্ছে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকা। এই সমস্ত বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তবে আলুবীজ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, প্রথমে আলুবীজের জোগান কম ছিল। তখন কিছুটা বেশি ছিল দাম। এখন আসছে পাঞ্জাব থেকে। তাই দাম স্বাভাবিকই আছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ