


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর দেশজুড়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে জেএমবি’র নেটওয়ার্ক। সংগঠনের বড় মাথারা এনআইএর জালে জড়িয়ে যায়। আর্থিকভাবেও সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া, তাদের নিজেদের মধ্যেও বিরোধ বাধতে থাকে। সংগঠন মূলত আদি এবং নব্যদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। কিন্তু শক্তি বাড়ায় আল কায়েদা। জেএমবি’র অনেক পুরনো জঙ্গি আল কায়েদায় যোগদান করেছে। তারাই সংগঠন বিস্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মহিলা ইউনিট তৈরিতেও জোর দিয়েছে। মূলত শিক্ষিত মহিলাদেরই তারা টার্গেট করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তারা সংগঠন বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এমন ইনপুট পেয়ে এনআইএ অনেক আগে থেকেই নজরদারি বাড়ায়। এখন তারা আরও বেশি সক্রিয়তা বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশকেও সতর্ক করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, এনআইএ’র নজরে থাকা তিন-চারজন আল কায়েদা জঙ্গি দীর্ঘদিন ধরেই ফেরার রয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের বাড়ি মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী এলাকায়। তিন বছর আগে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অল্পের জন্য সে হাতছাড়া হয়ে যায়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সীমান্ত পেরিয়ে সে বাংলাদেশে চলে গিয়েছে। সেখান থেকেই সংগঠনের কাজ করছে। আল কায়েদার স্লিপার সেল চার জেলায় সক্রিয় রয়েছে বলে গোয়েন্দারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন। ওই জেলাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। এক সময় এরাজ্যে জেএমবি’র সংগঠন অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। খাগড়াগড়ে ডেরা বেঁধে তারা সারা দেশে নেটওয়ার্ক বাড়াতে থাকে। এক গোয়েন্দা আধিকারিক বলেন, খাগড়াগড় কাণ্ডের পর দেশজুড়ে এনআইএ অভিযান চালায়। অধিকাংশ বড় মাথাকে গ্রেফতার করে তাদের দুর্বল করে দেয়। সালাউদ্দিন সালেহান নামে এক জঙ্গি ফেরার রয়েছে। তার সঙ্গে আল কায়েদার সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, জঙ্গিরা সংগঠনের বেশিরভাগ কাজ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে করে। তারা বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করছে। এক সময় তারা ‘ডার্ক ওয়েব’ ব্যবহার করত। এখন তারা আরও উন্নতমানের অ্যাপ ব্যবহার করছে। সংগঠনে যুবতীদের টানার দিকে তারা জোর দিয়েছে। তাদের বিভিন্নভাবে মগজ ধোলাই করছে। সেই আবর্তেই দিল্লির ঘটনার পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা রাজ্যে নজরদারি আরও বাড়িয়েছে।