Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ, বাঁকুড়ায় স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রণী ভুমিকা নিয়েছিলেন আকুইয়ের ‘গান্ধীবুড়ি’ ননীবালা

ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় কারাবরণ করেছিলেন ইন্দাসের আকুইয়ের স্বাধীনতা সংগ্রামী ননীবালা গুহ। বাঁকুড়া জেলায় মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে তিনি অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছিলেন।

ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ, বাঁকুড়ায় স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রণী ভুমিকা নিয়েছিলেন আকুইয়ের ‘গান্ধীবুড়ি’ ননীবালা
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় কারাবরণ করেছিলেন ইন্দাসের আকুইয়ের স্বাধীনতা সংগ্রামী ননীবালা গুহ। বাঁকুড়া জেলায় মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে তিনি অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছিলেন। তাই তিনি বাঁকুড়ার ‘গান্ধী বুড়ি’ নামে পরিচিত। বিপ্লবী আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি নিজের গ্রামে নারী শিক্ষার অগ্রগতি ঘটিয়েছিলেন। তাই তাঁর নামে আকুই গ্রামে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর গ্রামের বিশিষ্টজরা তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে জন্মদিবস পালন করেন। স্বাধীনতা দিবসেও তাঁরা সম্মান জানান। 

Advertisement

আকুই গ্রামের বিশিষ্টজরা বলেন, একজন মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামীর গ্রামে আমাদের জন্ম এটা ভাবতেই আমাদের গর্ববোধ হয়। সেজন্য আমরা ননীবালাদেবীকে স্মরণ করি। আগামী প্রজন্মও যাতে তাঁকে স্মরণ করে সেজন্য যুবসমাজকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।  
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮৮৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইন্দাসের আকুই গ্রামে রক্ষিত পরিবারে ননীবালাদেবীর জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম সৃষ্টিধর রক্ষিত। মাত্র ৯ বছর বয়েসেই গ্রামেরই জগৎ দুর্লভ গুহের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের মাত্র দু’বছর পরই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। পরবর্তীকালে তিনি বাঁকুড়া জেলার স্বাধীনতা সংগ্রমী জগবন্ধু দত্তের সংস্পর্শে আসেন। তাঁর কাছে বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষা নেন। এরপরেই দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৩০ সালে তিনি আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে জেলার অন্যতম মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।  ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনেও যোগ দিয়ে তিনি কারাবরণ করেন। 
ব্রিটিশদের কর আদায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়েও বহুদিন তাঁকে বিনা বিচারে মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে কাটাতে হয়। পরবর্তীকালে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি গ্রামে ফেরেন। আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি মহিলাদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন। তিনি নিজে বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেননি। তাই গ্রামের মহিলাদের শিক্ষিত করার কাজে ব্রতী হন। নিজের বসতবাড়িতেই স্কুল চালু করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ওই স্কুলই বর্তমানে আকুই ননীবালা প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরবর্তীকালে তাঁর নামে গড়ে ওঠে আকুই ননীবালা উচ্চ বিদ্যালয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে তাম্রপত্র দিয়ে বিশেষ সম্মানে ভুষিত করে। ১৯৯০ সালের ১৭ এপ্রিল তাঁর জীবনাবসান হয়। তাঁর স্মরণে ২০১৬ সালে ইন্দাস পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে আকুই গ্রামে ‘বাঁকুড়ার গান্ধীবুড়ি’র আবক্ষ মূর্তি স্থাপিত হয়। প্রতি বছর তাঁর জন্ম, মৃত্যু এবং স্বাধীনতা দিবসে গ্রামের বিশিষ্টরা তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান।• নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ