Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভিষেক পদে থাকলে প্রতীক ও কর্তৃত্ব দাবি করবে বিদ্রোহীরা, মমতাকে ‘আল্টিমেটাম’ আখরুজ্জামানের

আখরুজ্জামান মমতাকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন, অভিষেকের নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ। ৭১ বিধায়কের সমর্থন দাবি। বিস্তারিত পড়ুন।

অভিষেক পদে থাকলে প্রতীক ও কর্তৃত্ব দাবি করবে বিদ্রোহীরা, মমতাকে ‘আল্টিমেটাম’ আখরুজ্জামানের
  • ১৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: একের পর এক এক তৃণমূলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ। অনেককেই জেলে যেতে হচ্ছে। জনরোষ আছড়ে পড়ছে তাদের উপর। এদিকে চওডা ফাটল তৃণমূলের পরিষদীয় ও সংসদীয় দলেও। জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ফেটে পড়ছে প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপে। অধিকাংশ বিধায়ক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলে দল থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করছেন। অনেকে তলে তলে বিজেপির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন বলে গুঞ্জন। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝেই বোমা ফাটালেন রঘুনাথগঞ্জের বর্তমান বিধায়ক তথা বর্তমান বিধানসভার তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান।

Advertisement

রবিবার সকালে রঘুনাথগঞ্জে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন এই তৃণমূল নেতা। সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আমি তৃণমূলের টিকিয়ে জয়ী জন প্রতিনিধি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেত্রী। তারপরেই জানান, অভিষেকের জন্যই দলের এই ভরাডুবি। তার প্রতিই সকলের ক্ষোভ। দলে তার নেতৃত্ব মানা হবে না। পাশাপাশি তিনি হুশিয়ারি দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমরা আর বেশিদিন অপেক্ষা করব না। দলনেত্রীকে কার্যত চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আখরুজ্জামান দাবি করেন, দলের একটা বড় অংশই এখন দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে নতুন ব্লকে যোগ দিচ্ছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর ঘাসফুল শিবিরের আভ্যন্তরীণ ফাটল যে আর মেরামতযোগ্য নয়, তা একপ্রকার স্পষ্ট। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। আখরুজ্জামানের দাবি, এই মুহূর্তে অন্তত ৭১ জন দলীয় বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন এবং তাঁরা একজোটে অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। দলের সেকেন্ড ইন কামান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে যে দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা এদিন গোপন রাখেননি তিনি।
মুখ্য সচেতকের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি অবিলম্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মতামতের গুরুত্ব না দেন, তবে তাঁরা চরম পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবেন। এখানেই শেষ নয়, আখরুজ্জামান আরও বলেন, তাঁরাই প্রকৃত ‘তৃণমূল কংগ্রেস’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের দাবি না মানলে জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের মালিকানা দাবি করে তাঁরা খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) দ্বারস্থ হবেন। 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে আখরুজ্জামানের মতো একজন হেভিওয়েট নেতার তথা খোদ মুখ্য সচেতকের এই বিদ্রোহ মমতা-অভিষেকের জুটিকে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। ৭১ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি যদি সত্যি হয়, তবে তৃণমূল যে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। এখন দেখার, এই চরম হুঁশিয়ারির পর কালীঘাট তথা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে, নাকি রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড়ো কোনো ওলটপালট অপেক্ষা করে আছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ