Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মার্জিন আরও বৃদ্ধিই লক্ষ্য আকবর পত্নীর

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী, প্রয়াত আকবর আলি খন্দকারের বিধানসভা কেন্দ্র চণ্ডীতলা। তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রিয় ‘আকবরদা’ বাম আমলেও কংগ্রেসের টিকিটে ১৯৯৬ সালে এই কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন।

মার্জিন আরও বৃদ্ধিই লক্ষ্য আকবর পত্নীর
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, চণ্ডীতলা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী, প্রয়াত আকবর আলি খন্দকারের বিধানসভা কেন্দ্র চণ্ডীতলা। তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রিয় ‘আকবরদা’ বাম আমলেও কংগ্রেসের টিকিটে ১৯৯৬ সালে এই কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলেও যোগ দেন আকবর। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের পর এই কেন্দ্র ফের হাতছাড়া হয়েছিল তৃণমূলের। আকবর পত্নী স্বাতী খন্দকারকে টিকিট দেওয়ার পরও ২০০৬ সালে বিধানসভা ভোটে সিপিএমের ভক্তরাম পানের কাছে আসনটি হারাতে হয়েছিল তৃণমূলকে। তবে ২০১১ সালের পর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি স্বাতী খন্দকার বা তৃণমূলকে। কমবেশি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে এই আসনে জিতে আসছেন স্বাতী।

Advertisement

গত নির্বাচনে ৪৯.৭৯ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রায় ৪১ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজেপির অভিনেতা প্রার্থী যশ দাশগুপ্তকে হারিয়েছিলেন তিনি। ভোটের ফারাক ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। সিপিএমের হেভিওয়েট প্রার্থী মহম্মদ সেলিম ছিলেন তৃতীয় স্থানে। তাই এ বছর ভোটে জেতা-হারা নিয়ে ভাবছেন না বর্তমান বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘এই পাঁচ বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের সুবিধা আমি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি। তাই গতবারের চেয়েও বেশি ভোটে জেতার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’ 
এই কুড়ি শতাংশ মার্জিন ছাপিয়ে জয় পেতে কী কৌশল নিচ্ছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘মানুষ পরিবর্তন চাইছে। আমি হেঁটে মানুষের কাছে গিয়ে প্রচার করছি। বিধায়ক ট্যাবলো থেকেই নামছেন না।’ একইসঙ্গে বেশ কিছু স্থানীয় ইস্যুও তিনি তুলছেন। তাঁর দাবি, ‘চণ্ডীতলা হাসপাতালের কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখনও রোগীর সঙ্গে বিড়াল শুয়ে থাকে। ডানকুনি খাল, সরস্বতী খালের সংস্কার না হওয়ায় জল জমার সমস্যা রয়েছে। চণ্ডীতলা বা ডানকুনিতে স্থায়ী বাজার না থাকায় যত্রতত্র দোকানপাট বসে যাচ্ছে। ফলে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মশাট সহ চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গণপরিবহণ বেহাল।’ এইসব ইস্যুতেই প্রচারে শান দিচ্ছেন তিনি।
স্বাতী খন্দকার অবশ্য এসব উড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, তাঁর আমলে হাসপাতালে নতুন প্রতীক্ষালয়, গেট, হাইমাস্ট আলো বসেছে। পাশাপাশি, সিজার রুম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে, নতুন এসএনসিইউ খোলা হয়েছে। ১০টি বেড যুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের টাকায় ৬০ বেডের হাসপাতাল তৈরির ডিপিআর প্রস্তুত। কাছাকাছি ফুরফুরা শরিফ, সিঙ্গুর এবং শ্রীরামপুরে ১০০ বেডের  সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল বা ট্রমা কেয়ার ইউনিট থাকায় চণ্ডীতলায় এখনই একশো বেডের হাসপাতাল করা যাচ্ছে না। স্থায়ী বাজারের ক্ষেত্রে জমি ও উচ্ছেদ সমস্যা এবং বিক্রেতাদের মতামতের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জানান। বাবার পদবি দত্ত, স্বামীর পদবী খন্দকার কেন? এই প্রশ্নে এসআইআরে আটকানো হয়েছিল খোদ বিধায়ককে। পরে অবশ্য তথ্যপ্রমাণ দিয়ে ভোটার লিস্টে নাম পাকা করেছেন তিনি।
বামফ্রন্ট এবার এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে সিপিএমের শেখ আসিফ আলিকে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এই প্রার্থী ডোর টু ডোর প্রচারে জোর দিয়েছেন। উঠে আসছে সিলিন্ডার সমস্যা, এসআইআর নিয়ে হেনস্তার মতো ইস্যু। তবে মহম্মদ সেলিমের মতো ডাকসাইটে প্রার্থী যেখানে ১৮ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেয়েছিলেন, সেখানে আসিফ
আলি এই কেন্দ্রে জিতে গেলে মিরাকল হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সাধারণ মানুষ কী বলছেন? চণ্ডীতলার ডাকবাংলো এলাকা, জেলেপাড়া, বেলেডাঙা, নৈটি, বাকসা, জনাইয়ে নাম গোপন রাখার শর্তে খোলাখুলি কথা বললেন বেশ কিছু মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, এবারের থেকেও গত নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে হাওয়া বেশি ছিল। সেখানে যা ফল হয়েছে, তাতে এ বছর এই আসন তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ উলটে দেওয়ার মতো কাজ বিজেপি বিশেষ কিছু করেনি। বরং এসআইআর নিয়ে হেনস্তার ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে বিজেপির উপরেই।

সম্পর্কিত সংবাদ