অভিষেক পাল, বহরমপুর: একই দিনে গ্রেপ্তার হলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির দুই নেতা। এজেইউপির ব্লক সভাপতি সাইফুল ইসলাম মণ্ডল ওরফে মদন রেজিনগর উপনির্বাচনে ডামি প্রার্থী হয়েছেন। পুরনো মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করল। আবার, শনিবার ভোরেই হরিহরপাড়ায় আগ্নেয়াস্ত্র ও জাল নোট সহ গ্রেপ্তার হলেন এজেইউপির রাজ্য সম্পাদক আশিক ইকবাল ওরফে শুকবার মোল্লা। হুমায়ুনের সমর্থনেই রেজিনগর উপনির্বাচনে ডামি প্রার্থী হয়েছেন সাইফুল। গত বিধানসভা নির্বাচনের দিন হুমায়ুনের সঙ্গে নওদার ব্লক তৃণমূল সভাপতি সফিউজ্জামান শেখের ঝামেলা হয়। এর জেরে তৃণমূল ও এজেইউপি কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেই মামলায় সাইফুলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল। ধৃতকে রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে তুলে হেপাজতে চাইবে পুলিশ।
শনিবার ভোরে হরিহরপাড়ায় নাকা চেকিংয়ের সময় একটি বিলাসবহুল কালো গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড গুলি, ১০৮টি জাল নোট ও নগদ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এজেইউপির রাজ্য সম্পাদক আশিক ইকবাল এবং বাবলু শেখ নামে অপর এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এদিন ভোরে ভাকুড়ি-আমতলা রোডে নাকা চেকিং চলছিল। সেই সময় হরিহরপাড়া বাজারের দিক থেকে সন্দেহভাজন গাড়িটি আসছিল। পুলিশ সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই একটি নাইলনের ব্যাগের ভিতর থেকে দু’টি দেশি থ্রি নট থ্রি বোর আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড কার্তুজ, ১০৮টি জাল ৫০০টাকার নোট উদ্ধার হয়। সেইসঙ্গে নগদ সাড়ে আটহাজার টাকাও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, গাড়িটি নাকা চেকিংয়ে থামা মাত্রই আরও দু’জন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। পুলিশ পলাতক দু’জনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে এজেইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আশিক সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি ও আবু তাহের খানকে নিয়ে অনেক কথা বলেছিল। তাই পরিকল্পিতভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আবু তাহের যেভাবে বলছেন, পুলিশ সুপার সেভাবে কাজ করছেন।’ শনিবার সকালে মমতার রেজিনগরের প্রার্থীকে নিয়েও একপ্রস্থ রাজনৈতিক নাটকের সাক্ষী থাকল বাংলা। এদিন সকালে উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন রবিউল আলম চৌধুরী। কিন্তু, মাত্র কয়েকঘণ্টা পরই ৩৬০ডিগ্রি ঘুরে ফের ভোটে লড়ার বার্তা দেন তিনি। রবিউলের এই পরপর অবস্থান বদলে রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে বঙ্গ রাজনীতি সারাদিন সরগরম থাকল। এদিন সকালে হঠাৎই সংবাদমাধ্যমের সামনে বোমা ফাটান প্রাক্তন বিধায়ক রবিউল। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন প্রতীক বদলে দেওয়ায় খুব সমস্যা হচ্ছে। জোড়াফুলের বদলে নতুন ‘ফুটবলার’ প্রতীক মেলায় কর্মী-সমর্থকরা হতাশ। সেই কারণে উপনির্বাচনের লড়াই থেকে সরে যাওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করছেন। রবিউল বলেন, ‘এত কম সময়ে নতুন প্রতীক মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছানো ও চেনানো অসম্ভব। তার উপর আমাদের কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনেককে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে নির্বাচনে লড়ব?’ তাই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়ে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেন রবিউল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বহরমপুরের উদ্দেশে তিনি রওনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু, এরপরই কাহিনিতে নতুন মোড় আসে। বহরমপুর যাওয়ার পথেই বেলডাঙা থানায় হাজির হন রবিউল। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। থানা থেকে বেরনোর পর তিনি অবশ্য দাবি করেন, রাজনীতি নয়, অন্য বিষয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু সূত্রের খবর, পুলিশের কাছে সুরক্ষাবলয় ও কড়া নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে সিদ্ধান্ত বদলের কথা তিনি বিবেচনা করতে শুরু করেন। শুক্রবারই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন থেকে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রবিউলের মতো বর্ষীয়ান নেতার সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মমতা তৃণমূলের কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো হয়ে দাঁড়ায়। সূত্রের খবর, দুপুরে সরাসরি রেজিনগরের প্রার্থীর ফোনে যোগাযোগ করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর একটি ফোনেই ইউটার্ন নেন রবিউল। দুপুরের মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হাসিমুখে জানিয়ে দেন, তিনি ময়দান ছাড়ছেন না। প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, ‘দিদি আমাকে ফোন করে নিজেই সব শুনলেন। স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন, লড়তে হবে। দিদির কথার বাইরে তো আমরা কিছু করতে পারি না! কমিশন বরাদ্দ ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকেই কোমর বেঁধে প্রচারে নামছি।’