


নয়াদিল্লি: প্রতিরক্ষাতে আত্মনির্ভরতায় জোর দিচ্ছে ভারত। কিন্তু, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশীয় সংস্থার থেকে সমরাস্ত্র, যুদ্ধবিমান সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাহিনীকে। এই ইস্যুতে ফের উষ্মা প্রকাশ করলেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং। তিনি বলেন, অনেক সময় আমরা এমন কিছু চুক্তি করি, যা কখনই বাস্তবায়িত হবে না। সময় এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমন একটা প্রকল্পের কথাও আমি মনে করতে পারছি না, যেটি সময়ে শেষ হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে প্রতিশ্রুতি দেব কেন? এব্যাপারে তেজস এমকে১এ যুদ্ধবিমানের প্রসঙ্গ টেনেছেন বায়ুসেনা প্রধান। তিনি জানিয়েছেন, লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট প্রজেক্টের অধীনে ২০২১ সালে এই তেজস যুদ্ধবিমান পেতে হ্যালের সঙ্গে ৪৮ হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে ওই যুদ্ধবিমান বাহিনীর হাতে আসার কথা। কিন্তু তা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সিআইআই অ্যানুয়াল বিজনেস সামিটে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সামনেই এই বিলম্ব নিয়ে সরব হলেন বায়ুসেনা প্রধান। তিনি বলেন, তেজস এমকে১ হাতে আসেনি। তেজস এমকে২’র প্রোটোটাইপ এখনও বাজারে আসেনি। স্টেলথ এএমসিএ যুদ্ধবিমানের প্রোটোটাইপ তৈরিই হয়নি। বায়ুসেনা প্রধান বলেন, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি থাকতে হবে। আজ যেটা দরকার, সেটা আজই দরকার। যুদ্ধ জিততে হলে বাহিনীকে শক্তিশালী করতেই হবে। শুধু দেশে উৎপাদনের কথাই যথেষ্ট নয়, ডিজাইন নিয়েও চিন্তাভাবনা জরুরি।
তবে এই প্রথম নয়, গত বছর অক্টোবরে বায়ুসেনা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েও একইভাবে সরব হয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, একসময় সামরিক প্রযুক্তিতে চীনকে টেক্কা দিত ভারত। কিন্তু, এখন পিছিয়ে পড়ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সামগ্রী প্রস্তুতকারী সংস্থা হ্যালকে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাঁর মন্তব্য নিয়েও তুমুল বিতর্ক হয়।
এদিন অপারেশন সিন্দুরেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছে বায়ুসেনা প্রধান। জঙ্গি বিরোধী অভিযানকে ‘দেশের জয়’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেন, আমরা সত্যের পথে চলেছি। তাই আমাদের সঙ্গে ভগবানও রয়েছে। অপারেশন সিন্দুর গোটা দেশের জয়। ছবি: পিটিআই