Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জয়ের মার্জিন বাড়ানোই লক্ষ্য, বাড়ি বাড়ি ‘উন্নয়নের খতিয়ান’ পৌঁছে দিচ্ছে তৃণমূল

এবার ‘লিড’ বাড়ানোর লক্ষ্যে ঝাঁপাচ্ছেন মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ। উন্নয়নের খতিয়ান সামনে রেখে জোরকদমে প্রচারে নেমেছেন তিনি।

জয়ের মার্জিন বাড়ানোই লক্ষ্য, বাড়ি বাড়ি ‘উন্নয়নের খতিয়ান’ পৌঁছে দিচ্ছে তৃণমূল
  • ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এবার ‘লিড’ বাড়ানোর লক্ষ্যে ঝাঁপাচ্ছেন মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ। উন্নয়নের খতিয়ান সামনে রেখে জোরকদমে প্রচারে নেমেছেন তিনি। গত পাঁচ বছরে শহর থেকে গ্রাম—মধ্যমগ্রাম বিধানসভার প্রতিটি এলাকায় কী কী কাজ হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সংবলিত পুস্তিকা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন তৃণমূল কর্মীরা। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, শুধুমাত্র প্রচার নয়, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই বিরোধীদের অভিযোগ নস্যাৎ করছেন রথীন। তার জন্য বিধায়ক তহবিল, রাজ্য সরকার এবং পুরসভার অর্থে হওয়া উন্নয়নের সমস্ত হিসাব একত্রিত করে ‘উন্নয়নের খতিয়ান’ তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২৮টি ওয়ার্ড এবং পাঁচটি পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের সেই পুস্তিকা তুলে দেওয়া শুরু হয়েছে। 

Advertisement

২০১১ সালে আলাদা বিধানসভা হিসাবে আত্মপ্রকাশের পর থেকে মধ্যমগ্রাম তৃণমূলের দখলে। টানা তিনবারের বিধায়ক রথীন ঘোষ। শুরুতে কর্মিসভা করে সংগঠনকে চাঙা করার পর এখন সকাল-বিকাল বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ, মিছিল ও পথসভায় ব্যস্ত তিনি। তৃণমূলের অন্দরে ধারণা, উন্নয়নের হিসাব তুলে ধরেই এবার বাড়তি ‘লিড’ নিশ্চিত করবেন তাঁরা। 
এই কেন্দ্রে রথীনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি আইএসএফের প্রিয়াংকা বর্মন, কংগ্রেস ও ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী লড়াইয়ে রয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, মূল লড়াই ঘুরপাক খাচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেই। বিজেপি প্রার্থী রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য প্রচারের শুরু থেকেই অনুন্নয়নের অভিযোগ তুলে শাসক দলকে আক্রমণ করছেন। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে শহর ও গ্রামের উন্নয়নের ছবি আলাদা করা না গেলেও বাস্তবে সমস্যা রয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পুরানো হাটগুলির উন্নয়ন না হওয়া, খাল সংস্কারের অভাবে জল জমার সমস্যা এবং কিছু এলাকায় নাগরিক পরিষেবায় ঘাটতির প্রসঙ্গ তুলছেন তিনি। এই অভিযোগের পালটা দিতেই একেবারে তথ্য ও পরিসংখ্যান সহ পুস্তিকা প্রকাশের পথ বেছে নিয়েছে তৃণমূল। ২০২১ থেকে ২০২৬— এই পাঁচ বছরে কোন ওয়ার্ডে কত টাকা খরচ হয়েছে, পঞ্চায়েত এলাকায় কী কী পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, কোথায় খাল সংস্কার, কোথায় আলো বসানো হয়েছে, কোন রাস্তা নির্মাণ বা সংস্কার হয়েছে সবকিছুই বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে তাতে। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের উন্নয়নে বিধায়ক তহবিল থেকে কীভাবে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তারও উল্লেখ রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে শুধুমাত্র রাস্তাঘাট উন্নয়নেই খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। আলোর জন্য দু’দফায় ব্যয় হয়েছে ২ কোটি টাকা। ‘পথশ্রী ৪’ প্রকল্পে পুরসভার ২৮টি ওয়ার্ডে খরচ হয়েছে ২১ কোটি টাকা। 
রথীন ঘোষ বলেন, ‘বিধায়ক তহবিলের সমস্ত অর্থই খরচ হয়েছে মানুষের কাজে। কোনো রাজনৈতিক রং না দেখে কাজ হয়েছে। বিজেপি প্রার্থীর মধ্যমগ্রামের সঙ্গে বাস্তব কোনো যোগ নেই। তাঁর অভিযোগ ভিত্তিহীন।’ যদিও রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘বই প্রকাশ করে বাস্তব চাপা দেওয়া যায় না। মানুষ প্রতিদিন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। জল জমা, খাল সংস্কার না হওয়া, পুরানো বাজারের অব্যবস্থা ইত্যাদি প্রমাণ করে, উন্নয়নের দাবি মিথ্যা।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ