নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব এনভায়রনমেন্ট স্টাডিজে চাকরি দেওয়ার নামে ভগবানপুর ও চণ্ডীপুরে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণায় অভিযুক্ত সক্রিয় বিজেপি কর্মী। একাধিক যুবক চাকরির আশায় ১২ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এখন তাঁদের মধ্যে কেউ দেনার দায়ে ঘরছাড়া। কারও সংসার ভেঙেছে। কেউ আবার পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছেন। কারও মা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। তমলুক সিজেএম কোর্টের নির্দেশে ওই প্রতারণা ঘটনায় এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে চণ্ডীপুর থানার পুলিস। অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীর নাম অলোক দাস। তাঁর বাড়ি চণ্ডীপুর থানার ঈশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দামোদরপুর গ্রামে। ওই ব্যক্তি এভাবে বহু মানুষকে ঠকিয়েছে বলে তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলের নেতৃত্বের দাবি। অভিযুক্ত অলোক দাস অবশ্য প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, বাবুন ও এক পুলিস অফিসার তাঁর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লক্ষ টাকা নিয়েছে। চণ্ডীপুর থানার ওসি দীপককুমার অধিকারী বলেন, এফআইআর হয়েছে। সেইমতো তদন্ত শুরু হয়েছে।
Advertisement
ভগবানপুর থানার মনোহরপুর গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবক বাবুন মণ্ডল প্রতারিত হয়েছেন। বাবুন জানতে পারেন, তাঁরই বন্ধু প্রদীপ মণ্ডল সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে আইআইইএস প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন। বাবুন তাতে উৎসাহী হয়ে পড়েন। প্রদীপও তাঁকে চাকরির জন্য বলেন। তারপর বাবুন কয়েকবার দামোদরপুর গ্রামে অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যান। চাকরির আশ্বাস পেয়ে ১৪ লক্ষ টাকা জোগাড় করে তাঁর হাতে তুলে দেন। সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর গয়না ও শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে এবং মহাজনদের থেকে ধার নিয়ে ওই টাকা জোগাড় করেছিলেন। তারপর তিনি প্রদীপের মতোই একটি নিয়োগপত্র পান। তাতে মাসে ৪৩ হাজার টাকা মাইনে দেওয়ার কথা লেখা ছিল। ছ’মাসের একটি ট্রেনিং হয়। তারপর জানতে পারেন, এসবই ভুয়ো। প্রতারিত হওয়ার পর বাবুন ও প্রদীপের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।
এই মুহূর্তে বাবুন কিংবা প্রদীপ কেউই পাওনাদারদের ভয়ে বাড়িতে থাকেন না। পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতে প্রদীপ পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে কাজে চলে গিয়েছেন। বাড়িতে মা মানসিক অবসাদে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। একই কারণে বাবুনও বাড়িতে থাকেন না। প্রতিদিন পাওনাদাররা তাঁর খোঁজে বাড়িতে হাজির হচ্ছেন। এরকম অবস্থায় স্ত্রীও বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। পাওনা টাকার দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও মনোহরপুর গ্রাম কমিটিকে জানিয়েছেন। একইভাবে বাজকুলের অনীক দাসও ওই ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে এখন পুরোপুরি পরিযায়ী শ্রমিক। বাবুন বলেন, আমি একেবারে খেটেখাওয়া পরিবারের ছেলে। বাড়িতে কোনও সঞ্চয় ছিল না। স্ত্রীর গয়না বেচে এবং সম্পূর্ণভাবে ঋণ নিয়ে ১৪ লক্ষ টাকা জোগাড় করে এখন সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছি। এখন মাথার উপর প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার দেনা। প্রতিদিন পাওনাদাররা আমার খোঁজে বাড়িতে আসছে। চাকরির জন্য টাকা দিয়ে এভাবে ঠকে যাব ভাবিনি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করতে গিয়েছিলাম। পুলিস অভিযোগ নেয়নি। বাধ্য হয়ে তমলুক সিজেএম কোর্টে মামলা করেছিলাম। তার ভিত্তিতে থানায় এফআইআর হয়েছে। ঈশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য তথা চণ্ডীপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুনীল প্রধান বলেন, দামোদরপুরের অলোক দাস একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী। তিনি চাকরি দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। বিজেপির ঈশ্বরপুর অঞ্চল সভাপতি জয়ন্ত সংগ্রাম বলেন, অলোক দাস আমাদের দলের একজন সাধারণ সমর্থক। তিনি কোনও পদে নেই। অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে শুনেছি।
এই মুহূর্তে বাবুন কিংবা প্রদীপ কেউই পাওনাদারদের ভয়ে বাড়িতে থাকেন না। পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতে প্রদীপ পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে কাজে চলে গিয়েছেন। বাড়িতে মা মানসিক অবসাদে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। একই কারণে বাবুনও বাড়িতে থাকেন না। প্রতিদিন পাওনাদাররা তাঁর খোঁজে বাড়িতে হাজির হচ্ছেন। এরকম অবস্থায় স্ত্রীও বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। পাওনা টাকার দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও মনোহরপুর গ্রাম কমিটিকে জানিয়েছেন। একইভাবে বাজকুলের অনীক দাসও ওই ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে এখন পুরোপুরি পরিযায়ী শ্রমিক। বাবুন বলেন, আমি একেবারে খেটেখাওয়া পরিবারের ছেলে। বাড়িতে কোনও সঞ্চয় ছিল না। স্ত্রীর গয়না বেচে এবং সম্পূর্ণভাবে ঋণ নিয়ে ১৪ লক্ষ টাকা জোগাড় করে এখন সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছি। এখন মাথার উপর প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার দেনা। প্রতিদিন পাওনাদাররা আমার খোঁজে বাড়িতে আসছে। চাকরির জন্য টাকা দিয়ে এভাবে ঠকে যাব ভাবিনি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করতে গিয়েছিলাম। পুলিস অভিযোগ নেয়নি। বাধ্য হয়ে তমলুক সিজেএম কোর্টে মামলা করেছিলাম। তার ভিত্তিতে থানায় এফআইআর হয়েছে। ঈশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য তথা চণ্ডীপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুনীল প্রধান বলেন, দামোদরপুরের অলোক দাস একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী। তিনি চাকরি দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। বিজেপির ঈশ্বরপুর অঞ্চল সভাপতি জয়ন্ত সংগ্রাম বলেন, অলোক দাস আমাদের দলের একজন সাধারণ সমর্থক। তিনি কোনও পদে নেই। অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে শুনেছি।



