


নয়াদিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক প্রযুক্তি কাজের জগতে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। এই প্রযুক্তির জেরে বিশ্বজুড়ে ৪০ শতাংশ চাকরি বিপদের মুখে পড়বে। যার মধ্যে বেশিরভাগই প্রাথমিক স্তরের বা এন্ট্রি লেভেলের চাকরি। শুক্রবার এমনই সতর্কবাণী শোনালেন আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা। তাঁর মতে, শ্রমবাজারে সুনামির আঘাত আসতে চলেছে। আইএমএফের বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলিতে ৬০ শতাংশ চাকরিতে প্রভাব ফেলতে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ভারতের ক্ষেত্রে অবশ্য আশঙ্কা কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন ক্রিস্টালিনা। ভারতে ২৬ শতাংশ চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে চলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আইএমএফ প্রধানের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য মানুষকে তৈরি করতে হবে। এর জন্য নীতি নির্ধারণের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। এর জন্য মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। একইসঙ্গে সেই দক্ষতা যাতে কাজে লাগানো যেতে পারে, তার দিকে নজর রাখতে পাবে। এতে, চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টিকে মোকাবিলা করা সম্ভব।
এদিন ক্রিস্টালিনা বলেন, ‘কারা চাপে পড়বে? আমরা ইতিমধ্যেই দেখছি যে, প্রাথমিক স্তরের চাকরিতেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে। কারণ, ওই স্তরের কাজগুলি সহজেই যন্ত্রের সাহায্যে করা যায়। যাঁরা কলেজ পাশ করে নতুন চাকরি খুঁজছেন, তাঁদের তাহলে কী হবে?’ তাঁর বক্তব্য, ‘আমাদের মনে হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসার সঙ্গে সঙ্গে যে বদল হয়েছে, তার থেকে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। এখন যেভাবে সব কিছু চলছে, তার জন্য আমরা উপযুক্ত নীতি তৈরি করতে পারিনি।’ আইএমএফ প্রধান জানান, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসাবে ভারতের ‘ওয়ার্কফোর্স’ও বিশাল। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজে যোগ দিচ্ছেন। ভারতীয় অর্থনীতির ভালো দিক হল, কর কাঠামোর আমূল সংস্কার করা হয়েছে। এর ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই বিশ্বে ভারত নিজেকে প্রস্তুত করতে পেরেছে। সংস্কার এবং বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারত বিশ্বব্যাপী ‘সাপ্লাই চেনে’র অংশ হতে পেরেছে।