Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

আগরতলা সীমান্ত পর্যন্ত লং মার্চ, ডাক বিএনপির, ওপারে ১০০ টনের বেশি চাল পাঠাল ভারত

আগরতলা সীমান্ত পর্যন্ত লং মার্চ, ডাক বিএনপির, ওপারে ১০০ টনের বেশি চাল পাঠাল ভারত
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নয়াদিল্লি: একদিকে যখন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই পদ্মাপারের দেশে ‘ভারত বিরোধিতা’র জিগির জিইয়ে রাখতে তত্পর বিএনপি। রবিবার ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন অভিযানের ডাক দিয়েছিল খালেদা জিয়ার দল। এবার ঢাকা থেকে ত্রিপুরার আগরতলার আখাউড়া সীমান্ত পর্যন্ত ‘লংমার্চ’-এর কর্মসূচি ঘোষণা করল তারা। বুধবার এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। বিএনপির দাবি, ভারতের আগ্রাসন ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘ভুয়ো তথ্য’ প্রচারের প্রতিবাদেই এই মিছিল। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই পড়শি দেশে ১০০ টনেরও বেশি চাল পাঠাল ভারত। রবিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চারটি ট্রাক শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ি সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের বাংলাবান্ধায় প্রবেশ করে। এর আগে ২৬ নভেম্বরও ফুলবাড়ি-বাংলাবান্ধা হয়ে প্রায় একশো টন চাল ভারত থেকে বাংলাদেশে গিয়েছিল। ভারত আগেই ঘোষণা করেছিল, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব দুই দেশের বাণিজ্যের উপর পড়বে না। তারপরেও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠনের ক্রমাগত ধুয়ো তুলেছে, ভারতীয় পণ্য বয়কট করতে হবে। ক্রমাগত  ভারত বিরোধিতার জের বাণিজ্যে প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে বাংলাদেশে ফের চাল পাঠিয়ে দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার বার্তা দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
কিছুদিন আগেই আগরতলায় বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সঙ্গে সঙ্গেই সেই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে জানিয়েছিল ভারত। তার প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার ভারতীয় হাই কমিশন অভিযানে নেমেছিল বিএনপি। যদিও সেই কর্মসূচি জনমানসে তেমন সাড়া ফেলেনি। অনেক আগেই মিছিল আটকে দেয় পুলিস। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনে হামলার ‘ইস্যু’কে হাতছাড়া করতে চাইছে না বিএনপি। তাই এবার সেই আগরতলার কাছাকাছি পর্যন্ত মিছিল করে ‘ভারত বিরোধিতা’র বার্তা দিতে চাইছে তারা। সোমবার বিএনপির ছাত্র, যুব ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে। সেখানে যুব সংগঠনের সভাপতি আবদুল মোনায়েম জানান, বুধবার তাঁরা ঢাকা থেকে আগরতলা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ লংমার্চ করবেন।
এদিকে, ‘জয় বাংলা’কে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান করা যাবে না-এমন আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছিল মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। মঙ্গলবার সেই আবেদনের শুনানি হবে। ২০২০ সালে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিল হাইকোর্ট। শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকেই বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি মুছে ফেলার তত্পরতা শুরু হয়। এবার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের উপর কোপ পড়ে কি না, তার দিকে নজর সকলের।
সম্পর্কিত সংবাদ