সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন অঞ্চলে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। কিন্তু কী কারণে এই সমস্যা হচ্ছিল, কৃষকরা তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। পরে ফসল নষ্টের বিষয়টি জানতে পারেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাকদ্বীপ আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রের (উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চল) বিজ্ঞানীরা। তাঁরা এই অঞ্চলের ফসলের জমিগুলি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তখনই জানা যায়, কৃমি রোগের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসল। এরপরই কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে এখানকার কৃষকদের ডেকে কৃমি রোগ সংক্রান্ত সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শান্তনু ঝা, অধ্যাপক মতিয়ার রহমান খান, অধ্যাপক রমনকুমার ওয়ালিয়া সহ কাকদ্বীপ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যাপকরা।
জানা গিয়েছে, সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্ছে, পটল, ঝিঙে, টম্যাটো, ঢেঁড়স, লাউ, শসা ইত্যাদির চাষ হয়ে থাকে। বর্তমানে এই চাষের জমিগুলিতেই ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও ধানগাছের বীজতলাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কৃষি বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, কৃমি রোগের কারণে গাছের চেহারা প্রথমে খারাপ হতে থাকে। শিকড়ে গাঁট তৈরি হয়ে পচন শুরু হয়। এরপরই গাছগুলি শুকিয়ে যেতে থাকে।
এবিষয়ে পাথরপ্রতিমার দুর্বাচটি এলাকার এক কৃষক ভগবান জানা বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে দেখছি, টম্যাটো গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ওষুধ দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না। কিন্তু কী কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। কাকদ্বীপে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা পুরো বিষয়টি খোলাসা করে বললেন। তবে অতীতে এই রোগটা সম্বন্ধে কিছুই জানতাম না। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাকদ্বীপ আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অধ্যাপক ডঃ হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সম্প্রতি সুন্দরবন অঞ্চলে বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি জানার পরই গবেষণা শুরু হয়। এক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, কৃমি সংক্রান্ত রোগের জন্য এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এই রোগটির বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র