


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে সীমিত টাকায় মিড ডে মিল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এবার মুশকিল আসান জেলা কৃষি বিপণন দপ্তর। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই দপ্তরের তত্ত্বাবধানে জেলার নানা প্রান্তের চাষিরা নিজেদের দায়িত্বে স্কুলে স্কুলে প্রয়োজনীয় সব্জি পৌঁছে দিচ্ছেন। ন্যায্যমূল্যে। খোলা বাজারের চেয়ে কম দামে স্কুলগুলি মিড ডে মিলের জন্য প্রয়োজনীয় সব্জি পাচ্ছে। জেলার ৬৮টি স্কুলকে বাছাই করে সব্জি সহ তেল, ডাল পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই জেলার প্রতিটি স্কুলেই এই পদ্ধতিতে সব্জি সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। তাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন।
জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিক রাকেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, জেলার কৃষকদের স্বার্থেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এফপিসি ও এফপিওর সঙ্গে যুক্ত চাষিদের হাত ধরে স্কুলগুলিতে ন্যায্যমূল্যে মিড ডে মিলের প্রয়োজনীয় সব্জি পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে তেল, ডালও রয়েছে। এতে জেলার চাষিরা উপকৃত হবেন। উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা নিয়েও খুব একটা চিন্তা থাকবে না। সেইসঙ্গে প্রতিটি সব্জির ঠিকমতো দরও পাবেন। আখেরে তাঁরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। সেইসঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষও উপকৃত হবে।
মাঝেমধ্যেই সবজির দর আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বেগ পেতে হয়। উল্টোদিকে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা নিয়ে চাষিরা বিপাকে পড়েন। তাঁদের কাছ থেকে ফোড়ে ও খুচরো বিক্রেতারা কম দামে সবজি কিনে বেশ দরে বিক্রি করেন। তাতে মিড ডে মিলে সবজি দিতে সমস্যা হয়। সেই কারণেই জেলা প্রশাসন স্কুলে সবজি পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পের সূচনা করেছে। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জেলার তিন মহকুমার বাছাই করা ৬৮টি স্কুলে কৃষকদের হাত দিয়ে প্রয়োজনীয় সবজি পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্প জেলায় প্রশংসা পেয়েছে। জেলা প্রশাসন অতি দ্রুত বাকি স্কুলগুলিতে এই পদ্ধতিতে সবজি পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনটি মহকুমায় মোট ৩৭৭০টি স্কুল রয়েছে। সমস্ত স্কুলেই নিয়মিত পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিল রান্না হয়। প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ সবজি প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, স্কুলগুলিতে নিয়মিত চাষিরা সব্জি সহ ডাল ও তেল পৌঁছে দিলে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা নিয়ে তাঁদের মাথাব্যথা কমবে। ফসলেরন্যায্য মূল্য পারেন। খয়রাশোল ব্লকের চাষি সজল মণ্ডল এবার বেগুন, কুমড়ো, কচু চাষ করেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে আমি নিজের জমিতে চাষ করা সব্জি স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছি। তাতে লাভ ভালোই হচ্ছে। সবেচেয়ে বড় কথা, ফসল বিক্রি হবে কি না, কী দাম পাওয়া যাবে, তা নিয়ে কোনও চিন্তা থাকছে না। আমাদের সঙ্গে দু’হাজারের বেশি চাষি আছেন। আমরা নিজেদের মতো রুটিন তৈরি করে স্কুলে স্কুলে সব্জি পৌঁছে দিচ্ছি। রূপুসপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, এই ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হচ্ছে। খোলা বাজারে সব্জির দাম ওঠানামা করলেও কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না।