সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের ঢিলেঢালা মনোভাবে ক্ষোভে ফুঁসছেন বিজেপির নিচুতলার কর্মীরা। জেলায় জেলায় পদ্ম শিবিরের কর্মীরা কার্যত হতাশ। প্রায় একবছর ধরে কোনও জোরালো ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচিও দেখা যায়নি শিলিগুড়িতে।
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের ঢিলেঢালা মনোভাবে ক্ষোভে ফুঁসছেন বিজেপির নিচুতলার কর্মীরা। জেলায় জেলায় পদ্ম শিবিরের কর্মীরা কার্যত হতাশ। প্রায় একবছর ধরে কোনও জোরালো ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচিও দেখা যায়নি শিলিগুড়িতে।
এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকার কারচুপি ধরতে তৃণমূল কংগ্রেস ময়দানে নেমে পড়ায় বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার কর্মীরা চিন্তিত। দলের শিলিগুড়ি জেলা কমিটির এক পদাধিকারী বলেন, জেলার নতুন সভাপতি ঘোষণা এবং কমিটি গঠন কবে হবে জানা নেই। সাংগঠনিক এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করতে পারছি না। এই সাংগঠনিক রদবদলের অপেক্ষায় থেকে জেলার নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এতে আমরা অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। সেখানে তৃণমূল ভোটার তালিকার কারচুপি বা ভুয়ো ভোটার ধরতে অভিযানে নামায় জনসংযোগে তারা আমাদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে যাচ্ছে।
বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ দানা বাঁধছে জেলা কমিটি গঠনের নতুন পদ্ধতি নিয়েও। শিলিগুড়ি জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা গঠন ও জেলার নিয়ন্ত্রণ রাজ্য নেতৃত্বের হাতে থাকবে। জেলা কমিটি গঠনে সভাপতির পছন্দ- অপছন্দ প্রাধান্য পাবে না। প্রতিটি জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে ৫০ জনের নামের তালিকা সংগ্রহ শুরু করেছে রাজ্য নেতৃত্ব। শনিবার শিলিগুড়িতে এনিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতারা বৈঠকও করেন। সেখানে ছিলেন দলের উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত দীপক বর্মন। জেলা সভাপতি ঘোষণার পর তাঁকে নিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বসবেন। জেলার সেই তালিকা ধরে তাঁরা জেলা কমিটি গঠন করে দেবেন।
রাজ্য নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত দলের জেলার নেতা-কর্মীদের অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। উত্তরবঙ্গের বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, এভাবে জেলা কমিটি গঠন হলে গুরুত্বহীন বা বিতর্কিত নেতারা জায়গা পেতে পারেন। এতে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জেলায় সাংগঠনিক রদবদলের পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সভাপতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা গত দেড়বছর ধরে তৈরি হয়েছে।
সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে ঢিলেমিতে দলের নিচুতলার কর্মীদের অসন্তোষ অস্বীকার করছেন না বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ। ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক বিজেপির দুর্গা মুর্মু বলেন, জেলা সভাপতি ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দেরি হচ্ছে। তবে এটা আমাদের দলের নিয়মের মধ্যেই পড়ে। তাই হতাশ হলেও এটা সকলকে মেনে নিতে হবে। শীর্ষ নেতৃত্বের নিশ্চয় এই দিকটি মাথায় আছে। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অরুণ মণ্ডল বলেন, দলের নিয়ম সবাইকে মানতেই হবে।
উত্তরবঙ্গের বিজেপির এক বিধায়ক বলেন, নতুন রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের প্রতীক্ষায় থাকতে গিয়ে আমরা কার্যত রাজনৈতিক কর্মসূচিহীন হয়ে পড়েছি। এতে সাংগঠনিকভাবে দল অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে।