নিজেদের দলের প্রধান-উপপ্রধানকে সরাতে সক্রিয় বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীরা, চর্চা
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই বদলাচ্ছে পঞ্চায়েতের অঙ্কও! এতদিন যাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বোর্ড চালিয়েছেন, এখন তাঁদেরই সরাতে উদ্যোগী তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের একাংশ। উত্তর ২৪ পরগনার গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে প্রধান ও উপপ্রধানদের বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। আর এই সমীকরণের নেপথ্যে বিজেপির সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগ ঘিরেই এখন চর্চা তুঙ্গে।

Advertisement

জেলায় মোট ১৯৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত। সূত্রের খবর, রাজ্যে পালাবদলের পর ২০ জন প্রধান এবং চার জন উপপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন পঞ্চায়েতের অন্য সদস্যেরা। উল্লেখযোগ্য, সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতগুলি তৃণমূলের পরিচালনাধীন। অর্থাৎ, বিরোধী শিবিরের চ্যালেঞ্জ নয়, দলের অন্দরেই প্রশ্নের মুখে পড়ছেন প্রধান ও উপপ্রধানরা। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, পালাবদলের পর কি সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সদস্যেরা? দলীয় সূত্রের খবর, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর বোর্ড গঠনের সময় প্রধানের পদ নিয়ে তৃণমূলের একাধিক সদস্যের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। অনেকেই প্রধান হওয়ার দাবিদার ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পদ পান অন্যেরা। আর সেই ক্ষোভ কি এতদিন জমে ছিল? সূত্রের দাবি, রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই পুরনো অসন্তোষকে সামনে এনে বর্তমান প্রধান ও উপপ্রধানদের সরানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দলের অন্দরে আলোচনা, এই তৎপরতার পিছনে কোথাও কোথাও বিজেপির সঙ্গে গোপন সমঝোতাও কাজ করছে। বারাসত ২ নম্বর ব্লকের কীর্তিপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থার ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে পঞ্চায়েত সদস্যদের একাংশের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, পঞ্চায়েতের অন্দরে নেতৃত্ব বদলের লড়াই কি শুধুই পুরানো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি তার সঙ্গে জুড়েছে পালাবদল-পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশলও? এদিকে, জেলায় ইতিমধ্যেই ১৭ জন প্রধান এবং ১৪ জন উপপ্রধান ইস্তফা দিয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। অনাস্থা ও পদত্যাগের জোড়া চাপে পঞ্চায়েত পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, বিভিন্ন পঞ্চায়েতে অনাস্থা ও প্রধান উপপ্রধানদের পদত্যাগের বিষয়টি এখন বড়ো আলোচনার বিষয়। তবে মানুষের পরিষেবা পেতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করছি। ২০২৩ সালে বোর্ড গঠনের সময় যে লড়াই শুরু হয়েছিল পদ পাওয়া নিয়ে, পালাবদলের পর তাই কি নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেল? উত্তর ২৪ পরগনার পঞ্চায়েত রাজনীতিতে এখন সেই প্রশ্নই বড়ো হয়ে উঠছে।