নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় দু’মাসের মাথায় জট কাটিয়ে প্রতিমা তৈরির মাটি আসা শুরু হল কুমোরটুলিতে। পটুয়াপাড়ার মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আন্তরিক উদ্যোগে অবশেষে দীর্ঘ সমস্যার জট কাটা সম্ভব হল। আমরা রাজ্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাবু পাল মঙ্গলবার বলেন, ‘প্রশাসনিক আলোচনার পর সবুজ সংকেত মেলায় সোমবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবার থেকে আসে চার লরি মাটি। তারমধ্যে দু’লরি আসে কুমোরটুলিতে। বাকি দু’লরি যায় মানিকতলা খালপাড়ে মৃৎশিল্পীদের কাছে। মঙ্গলবার থেকে নিয়মিত মাটি আসবে পটুয়াপাড়ায়। ফলে আশা করা যাচ্ছে দু’একদিনের মধ্যে পুরোদমে কুমোটুলিজুড়ে জোরকদমে কাজ শুরু হয়ে যাবে।’ মৃৎশিল্পী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘গত দু’মাস ধরে মাটি মেলায় অচল হয়ে পড়েছিল পটুয়াপাড়া। মৃৎশিল্পীদের কাজকর্ম শিকেয় উঠেছিল। সমস্যার সমাধানে প্রশাসনিক নানা মহলে চিঠি, ডেপুটেশন দেওয়ার পাশাপাশি দফায় দফায় চলে সংগঠনের কর্মকর্তাদের বৈঠক। অবশেষে সেই জট কাটায় আমরা খুশি।’
কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীদের একাংশ জানান, মাটির আকালের জেরে এতদিন ধরে প্রতিমার বায়না থমকে ছিল। আগের যে বায়না মিলেছিল, সেই সমস্ত প্রতিমার কাঠামোতে খড় বাঁধার কাজ শেষ করে রাখা হয়েছিল। অবশেষে মাটি আসায় শুরু হল কাঠামোতে মাটির প্রলেপ। প্রতিমা শিল্পী রাজা পাল, চায়না পাল বলেন, ‘আর কিছুদিন মাটির সংকট চললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত।’ শিল্পী সমর পাল, বরুণ পাল, কমল পালরা বলেন, ‘অনেকটা সময় ক্ষতি হল। ধীরে ধীরে পুজো এগিয়ে আসছে। এখন দ্রুত গতিতে কাজ শুরু না করলে ঠিক সময় প্রতিমা বায়নাকরীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়।’ সব মিলিয়ে ঝিম মেরে থাকা কুমোরটুলি ফের প্রাণ চঞ্চল হয়ে উঠছে। মাটি সংকট কাটার ফলে মঙ্গলবার ভাঁড় শিল্পীদের মুখেও হাসি ফুটেছে। মাটি না আসার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে পাইকারি বাজারে ভাঁড়ের দাম বাড়ছিল। তার জের এসে পড়ে খুচরো বাজারেও। ফলে শহরে বিভিন্ন প্রান্তে মাটির ভাঁড়ে চায়ের দামও কিছুটা বাড়ে। এনিয়ে শহরে আন্দোলনে নামে ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্থ পট মেকার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি মোহনলাল প্রজাপতি বলেন, ‘মাটি জট নিয়ে আমরা সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এক গণ ডেপুটেশন দিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে ভাঁড় শিল্প ফের চাঙ্গা হয়ে উঠবে।’ -নিজস্ব চিত্র