নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে জোরকদমে শুরু হয়েছে ছয় লেনের এলিভেটেড করিডর তৈরির কাজ। এই করিডরের সম্প্রসারিত অংশ অর্থাৎ র্যাম্প লেনের কাজ শুরু হবে খুব শীঘ্রই। তবে এই কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন বহু নিকাশি নালা ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎবাহী তার। পাশাপাশি মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে তীব্র যানজট। সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে কীভাবে বর্ষার আগেই এই কাজ সম্পূর্ণ করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে বুধবার কোনা এক্সপ্রেসওয়ে পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসন, সিটি পুলিস, হাওড়া পুরসভা, সিইএসসি ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের শীর্ষকর্তারা।
এদিন দুপুরে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্যারি রোড, বেলেপোল, সাঁতরাগাছি ক্রসিং সহ কোনা এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া, হাওড়ার পুলিস কমিশনার প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী, হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। সেই সূত্রেই জানা গিয়েছে, ক্যারি রোড ক্রসিং থেকে কিছুটা আগে ছয় লেনের এলিভেটেড করিডরের র্যাম্প লেন শুরু হবে। তাই সেই অংশে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলবে। কিন্তু আশপাশে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের মূল নিকাশি নালা কোনা এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন নালায় এসে পড়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য নিকাশি নালা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিলে আগামী বর্ষায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে বিভিন্ন জায়গায় মাটির নীচে সিইএসসির বিদ্যুতের তারের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে। রাস্তায় সারফেস পাইলিংয়ের কাজ শুরু হলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেগুলি। তাই গোটা এলাকা ঘুরে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রেখে কীভাবে সুষ্ঠুভাবে কাজ শেষ করা যায়, তারই প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হল এদিন।
জেলাশাসক বলেন, ‘জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিস, হাওড়া পুরসভা ও বিদ্যুৎ বণ্টন দপ্তরের যৌথ সহযোগিতা প্রয়োজন। সেজন্যই এদিন পরিদর্শন করা হল। বর্ষার আগেই এই কাজ শেষ করতে হবে।’ কলকাতা ও হাওড়ার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও ভিন রাজ্যের যোগাযোগের মাধ্যম হল কোনা এক্সপ্রেসওয়ে। ছোট গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও প্রচুর পণ্যবাহী লরি, ডাম্পারের যাতায়াতে তীব্র যানজট হয় এই রাস্তায়। সঙ্কীর্ণ সাঁতরাগাছি ব্রিজের কারণে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। কলকাতা থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর টোল প্লাজা পেরিয়ে গরফা খেজুরতলা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার লম্বা ছ’লেনের এলিভেটেড করিডর তৈরির কাজ চলছে প্রায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। র্যাম্প লেন তৈরির সময় বিদ্যাসাগর সেতু পেরিয়ে আসা গাড়িগুলি যানজটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। তাই রাতে এই কাজ করা হবে বলে এদিন প্রশাসনের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।