Bartaman Logo
৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাড়ে চার বছর পর বাংলার জবকার্ডধারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাল মোদি সরকার

২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গে ‘১০০ দিনের কাজ’ বন্ধ করে দেয় কেন্দ্র। ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে দিল্লি এই খাতে টাকা দেওয়া বন্ধ করে।

সাড়ে চার বছর পর বাংলার জবকার্ডধারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাল মোদি সরকার
  • ৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গে ‘১০০ দিনের কাজ’ বন্ধ করে দেয় কেন্দ্র। ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে দিল্লি এই খাতে টাকা দেওয়া বন্ধ করে। তখন থেকে প্রায় সাড়ে চার বছর রাজ্যের জবকার্ড হোল্ডারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক টাকাও ঢোকেনি। অবশেষে সেই অবস্থার পরিবর্তন হল! রাজ্যে পালাবদলের পর গত ৯ জুন থেকে ‘১০০ দিনের কাজ’ ফের শুরু হয়। ১ জুলাই থেকে গোটা দেশের সঙ্গে এ রাজ্যেও ‘১০০ দিনের কাজ’-এর বদলে চালু হয় ‘১২৫ দিনের কাজ’ বা ভিবি জি রামজি প্রকল্প। সেই কাজের পারিশ্রমিক বাবদ সম্প্রতি রাজ্যের জবকার্ড (গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড) হোল্ডারদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে মোট ১ কোটি টাকা। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যে মোট ৩৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত আছে। এর মধ্যে অন্তত ২৬০০ গ্রাম পঞ্চায়েতে ‘ভিবি জি রামজি’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। যদিও জুনে ‘১০০ দিনের কাজ’ হোক বা বর্তমানে ‘১২৫ দিনের কাজ’—তা শুরু করার ক্ষেত্রে বেনজির প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়েছিল প্রশাসনকে। কারণ, রাজ্যে পালাবদলের পর সিংহভাগ তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান ও নির্বাচিত সদস্যরা ছিলেন বেপাত্তা। তাঁরা অফিসে না আসায় নতুন করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পঞ্চায়েত দপ্তরকে পুরোপুরি আধিকারিকদের উপর নির্ভর করতে হয়। তাই কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে অনেক জায়গায়। 
এই আবহে ‘ভিবি জি রামজি’ প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। সেখানে ঠিক হয়েছে, রাজ্যের ২৩টি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে জবকার্ড হোল্ডারদের জন্য কাজ সৃষ্টি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি, কৃষি বিপণন, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, মৎস্য. বন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, সেচ ও জলপথ, স্কুলশিক্ষার মতো সব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। কীভাবে সমন্বিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হবে, তা নির্দিষ্ট করে একটি এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) জারি করেছে রাজ্য। সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই এসওপি বলে জানানো হয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন দপ্তরের যথাযথ সমন্বয়ে এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। বিভিন্ন দপ্তর বা বিভাগের সঙ্গে কোন কোন ক্ষেত্রে সমন্বয় হবে, তাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ওই এসওপিতে। 
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজ শুরুর পর এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ১ কোটি ১৫ লক্ষ শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই কনভারজেন্স বা সমন্বয়ের জন্য মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে রয়েছে স্টেট লেভেল স্টিয়ারিং কমিটি।  একইভাবে কমিটি আছে জেলা স্তরেও। তারাই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ