নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ডার্বির সাফল্যের পর এবার কলকাতা ফুটবল লিগ (সিএফএল)। বারাসত স্টেডিয়ামে এবার হতে চলেছে পরপর তিনটি ম্যাচ। ডার্বির রেশ কাটতে না কাটতেই ফুটবল ম্যাচের আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। নিরাপত্তা, দর্শক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক এবং মাঠের পরিকাঠামো— সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বারাসত স্টেডিয়ামে ডার্বি আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফ্লাডলাইটের আলোয় বারাসতে ডার্বি হয়েছে। ম্যাচ ঘিরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় হয়েছিল। প্রায় হাজার দশেক দর্শকের উপস্থিতিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ম্যাচ শেষ হয়েছে। পুলিশি তৎপরতা ছিল নজরকাড়া। এবার কলকাতা লিগের তিনটি ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন বিধায়ক।
আইএফএ’র সূচি অনুযায়ী ১৪ সেপ্টেম্বর সিএফএলের ম্যাচে বারাসত স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ১৭ সেপ্টেম্বর হবে মোহনবাগান ও মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের খেলা। ১৯ তারিখের ম্যাচ এসপি ভবানীপুর ফুটবল ক্লাব বনাম ইউনাইটেড স্পোর্টিং ক্লাব। ম্যাচের দিনগুলিতে স্টেডিয়ামে দর্শকদের চাপ কতটা হতে পারে, সেই হিসাব করেই নিরাপত্তার পরিকল্পনা করছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানো হবে। গ্যালারিতে দর্শকদের প্রবেশ এবং বেরনোর ক্ষেত্রে যাতে বিশৃঙ্খলা না হয়, সে দিকেও নজর থাকবে। মাঠে দু’দলের খেলোয়াড় এবং ম্যাচ আধিকারিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্টেডিয়াম সংলগ্ন কেএনসি রোডে যানজট এড়াতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও বিশেষ নজর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ডার্বির সময় বারাসত পুলিশ জেলার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য জায়গা থেকেও বাহিনী আনা হয়েছিল।
বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ডার্বি আয়োজনের সময় থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল বারাসতকে ফের ফুটবলের মঞ্চে ফিরিয়ে আনা। সেই ম্যাচ সকলের সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে হয়েছে। এবার এই তিনটি ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডার্বির মতোই এই ম্যাচগুলিও যাতে সুন্দরভাবে হয়, তার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। চলতি সপ্তাহে আইএফএ-র সঙ্গে বৈঠক করব। প্রশাসনের কর্তাদের বক্তব্য, ডার্বির সময় যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তেমন ব্যবস্থাই করা হবে।