শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: টানা ১৭ বছরের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে হাসি ফুটল পরিবারের মুখে। সরকারি চাকরির মুখ দেখতে চলেছেন পিতৃহারা আকাশ। পুরো নাম আকাশরঞ্জন রায়। বাড়ি চন্দননগরে। বাবা বিকাশরঞ্জন রায় ছিলেন পুলিশ কর্মী, কনস্টেবল। হুগলির গুড়াপে কর্মরত অবস্থায় মারা যান তিনি। সেই সময় মৃতের পোষ্য হিসাবে চাকরি পাওয়ার অধিকার ছিল পরিবারের কারও। স্ত্রীর তখন বয়স ৫২ বছর। আকাশ সেই সময় নাবালক। স্বাভাবিকভাবেই স্বামীর মৃত্যুর ৬ মাসের মধ্যে কমপেশনেট গ্রাউন্ডে আবেদন করে স্ত্রী জানিয়েছিলেন, চাকরির প্রয়োজন। পরে ছেলে সাবালক হলে মা আকাশের নাম চাকরির জন্য সুপারিশ করেন। কিন্তু কাল হল আইনি জট। একবার রাজ্য সরকার, একবার স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (স্যাট)-এ দৌড়ঝাঁপ করেও লাভ হয়নি। শেষমেশ হাইকোর্টের রায়েই জট খুলল। ডিভিশন বেঞ্চ আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে আকাশরঞ্জনকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দিতে নির্দেশ দিয়েছে সরকারকে। চাকরিরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মীর মৃত্যু হলে তৎক্ষণাৎ তাঁর পরিবারকে আর্থিক সুরাহা দিতে চালু রয়েছে কমপেশনেট গ্রাউন্ডে অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা। কিন্তু ঠিক কোন ক্ষেত্রে মৃত সরকারি কর্মীর পরিবারের সদস্য সেই চাকরি পাওয়ার যোগ্য, তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর জটিলতা। এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জমে রয়েছে মামলার পাহাড়। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মীর মৃত্যুর ৬ মাসের মধ্যে কমপেশনেট গ্রাউন্ডে চাকরির জন্য আবেদন করতে হয়। সেই আবেদন করেছিলেন মামলাকারী আকাশরঞ্জন রায়ের মা। ২০০৯ সালে গুড়াপে চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু হয় বিকাশবাবুর। ২০১৩ সালে আকাশ সাবালক হলে মা দাবি করেন, এই বিশেষ পরিস্থিতিতে তাঁর আবেদনটি বিবেচনা করে ছেলেকে চাকরি দেওয়া হোক। পরবর্তীকালে বিষয়টি তিন সদস্যের স্ক্রিনিং কমিটির কাছে গেলে, তারা আকাশকেই বাবার চাকরি দেওয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু ২০২২ সালে সেই সুপারিশ নাকচ করে দেন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ সচিব। এরপর সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্যাটে মামলা করেন আকাশ। স্যাট অবশ্য রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আকাশ। হাইকোর্টের দুই বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদ ও বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে আকাশের আইনজীবী সুশান্ত পাল সওয়ালে বলেন, কমপেশনেট অ্যাপয়েন্টমেন্টের ক্লজ ১০ (এএ) অনুযায়ী এই আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হয়নি। ধারা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর মৃত্যুর পর পাঁচ বছর পর্যন্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে কমপেশনেট গ্রাউন্ডে চাকরির জন্য আবেদন করা যায়। এক্ষেত্রে পুলিশ কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের কেউ চাকরিযোগ্য ছিলেন না। তাই মামলাকারী সাবালক হওয়ার পর বাবার চাকরি পাওয়ার যোগ্য হন। যদিও এর বিরোধিতা করে সরকারপক্ষ। বেঞ্চ সবপক্ষকে শোনার পর নির্দেশে জানায়, আট সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারীকে চাকরির চিঠি দিতে হবে সরকারকে।



