নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’র মর্যাদা দেওয়ার দাবি বহুদিনের। পূর্বতন সরকারও এনিয়ে জোরালো আওয়াজ তুলেছিল। ক্ষমতায় এলে গঙ্গাসাগরকে ‘জাতীয় মেলা’ হিসাবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সেই মতো কেন্দ্রকে জোড়া চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। এই আবহে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘গঙ্গাসাগর মেলাকে এবার আমরা আন্তর্জাতিক মেলা করে তুলব।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, গঙ্গাসাগরের ‘জাতীয় মেলা’র স্বীকৃতি এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তাছাড়া, পালাবদলের পর বর্তমানে রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার চলছে। ফলে কেন্দ্রের স্বীকৃতি পেতে রাজনৈতিক কোনো প্রতিবন্ধকতাও থাকার কথা নয়।
আরও খবর, এবার গঙ্গাসাগর মেলার উৎকর্ষ আরও কয়েক গুন বাড়তে চলেছে। আর তার জন্য সেই সব বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাঁরা সফলভাবে কুম্ভের আয়োজন করেছেন। জানা গিয়েছে, মেলা সংক্রান্ত তথ্যপ্রযুক্তির পুরো বিষয়টি এবার নতুন মোড়কে নামানোর পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে নজরদারি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বদল আনা হবে। আগামী বছর মকর সংক্রান্তিতে অর্ধকুম্ভ রয়েছে হরিদ্বারে। তারপরও গঙ্গাসাগর মেলায় এবার ভিড় বাড়বে বলেই মনে করছে প্রশাসন। তা মাথায় রেখেই যাবতীয় আয়োজন করা হবে। সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল বলেন, ‘কুম্ভ মেলার সাফল্য পরীক্ষিত। গঙ্গাসাগর মেলার পরিধি ও মান বাড়বে এবার। তার জন্য একটি অভিজ্ঞ এজেন্সি দরকার। তাই কুম্ভ যারা করেছে, তাদের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজন করা হবে। ইতিমধ্যে এনিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। আমাদের অফিসাররা তাদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলবেন।’
বিগত সরকারের সময় প্রতি বছর এই মেলায় পুণ্যার্থীদের ভিড় বেড়েছে। তাদের জন্য নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ। ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থেকে পুলিশি নজরদারি, হারিয়ে গেলে কীভাবে উদ্ধার করা যাবে—এ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনাসহ একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সবটাই ছিল প্রযুক্তিনির্ভর। এবারের মেলায় এসবের পরিধি ও গুণমান আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কুম্ভের বিশেষজ্ঞদের এখানে এনে নেওয়া হবে পরামর্শ। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা বলছেন, এতদিন যেসব প্রযুক্তিনির্ভর কাজ হয়েছে মেলায়, তার সঙ্গে কুম্ভের আয়োজনে বিস্তর ফারাক রয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার থেকে জলের নীচে ও আকাশে ড্রোনের ব্যবহার, ভিড় নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি—এসবই এবার দেখা যেতে পারে গঙ্গাসাগর মেলায়।