


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছিল অ্যাডমিট কার্ড। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ট্রেডসম্যান নিয়োগের পরীক্ষা দিতে এসে পরীক্ষার্থীরা জানতে পারে যে, ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের জন্য কোনো ভ্যাকেন্সি নেই। এই নিয়ে নদীয়ার চাপড়া থানার সীমানগর বিএসএফ সেক্টর হেড কোয়ার্টারের সামনে বিক্ষোভ দেখান ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীরা। তাঁরা দীর্ঘক্ষণ কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে রাখেন। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষায় যে কোনো শূন্যপদ নেই, তা আগাম জানানো হয়নি পরীক্ষার্থীদের। যার ফলে বিহার, ওড়িশার মতো বাইরের রাজ্য থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হয়।
বিহারের বিক্ষোভকারী পরীক্ষার্থী চাঁদনি কুমারি বলেন, বলা হল যে আমাদের নেওয়া যাবে না। কারণ বিহারের টেলারের জন্য ভ্যাকেন্সি নেই। আমাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলে। যদি শূন্যপদ না থাকে তাহলে অ্যাডমিট কার্ড কী করে এলো? যদি অ্যাডমিট কার্ড না দিত তাহলে আমরা আসতাম না। চারদিন আগে থেকেই আমরা এসেছিলাম। ঘরভাড়া নিয়ে থাকার জন্য আমাদের খরচ হয়েছে। অ্যাডমিট কার্ড দেখেই বলছে, আমাদের নাকি বাতিল হয়ে যাবে।
ওড়িশার এক পরীক্ষার্থী বলেন, রাত তিনটি থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সকাল ছ’টা র সময়ে এন্ট্রি হয়। তরপর বলছে ওড়িশার জন্য কোনো শূন্যপদ নেই। ওড়িশা থেকে আমরা অনেকেই পরীক্ষা দিতে এসেছি। এখানে এসে পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমাদের দশহাজার টাকা খরচ হয়ে গেল। আমাদের কতটা কষ্ট হয়েছে সেটা বিএসএফ জানবে না।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বিএসএফ-এর ট্রেডসম্যান পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। তাতে জানানো হয়েছিল যে ৩৫৮৮টি শূন্যপদের নিয়োগ হবে। যার মধ্যে পুরুষদের জন্য রয়েছে ৩৪০৬টি শূন্যপদ এবং মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ১৮২টি শূন্যপদ। মূলত রাঁধুনি, জলবাহক, সাফাই কর্মী, দরজি, কাঠমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, রং মিস্ত্রি সহ বিভিন্ন পদে এই নিয়োগ করা হয়। তার জন্য রাজ্যভিত্তিক শূন্যপদে নিয়োগ হওয়ার কথা। দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ ১৮ থেকে ২৫ বছরের যুবক যুবতীরা এই পরীক্ষায় বসতে পারবে। গত মাসে এই পরীক্ষার জন্য অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছিল পরীক্ষার্থীদের। সেইমতো চাপড়ায় সীমানগর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে মঙ্গলবার ভোর থেকেই ভিড় করেছিলেন কয়েকশো পরীক্ষার্থী। যাঁরা বিহার, ওড়িশার মতো রাজ্য থেকে এসেছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়ায় সীমানগর এলাকায়। অভিযোগ, নথি যাচাইয়ের সময়েই বিএসএফের আধিকারিকরা জানিয়ে দেন যে, বিহার ও ওড়িশার জন্য ট্রেডে কোনো শূন্যপদ নেই। এই নিয়েই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় চাপড়ার বিএসএফ হেড কোয়ার্টারের সামনে। কৃষ্ণনগর করিমপুর রাজ্য সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে রাখেন পরীক্ষার্থীরা। তারপর চাপরা থানার পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, বেশ কিছুক্ষণ রাস্তা অবরোধ করেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। তারপর পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার অবরোধ উঠে যায়। অন্যদিকে বিএসএফের জনসংযোগ আধিকারিক নিলোৎপাল পান্ডে বলেন, ট্রেডসম্যানের নিয়োগ চলছে। বিক্ষোভের ব্যাপারে কিছু জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব।