


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অজ্ঞাত কারণে আপাতত বাতিল হয়ে গেল কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন। আজ, শুক্রবার এই অধিবেশন হওয়ার কথা থাকলেও, পুর-সচিবালয় বিবৃতি জারি করে বলেছে, অধিবেশন হবে না। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। পুর-আইন অনুসারে মাসিক অধিবেশন ডাকা, বাতিল বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন একমাত্র পুর-বোর্ডের চেয়ারপার্সন বা চেয়ারম্যান। কিন্তু, কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের অভিযোগ, তাঁকে কিছু না জানিয়েই অধিবেশন বাতিলের এই নির্দেশিকা জারি হয়েছে। সূত্রের খবর, এর পিছনে রাজ্যে পালাবদলের জেরে তৈরি হওয়া মেয়র-কমিশনার ‘দূরত্ব’ মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিবেশন বাতিল হওয়া নিয়ে বেনজির প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা সাংবিধানিক সংকট তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। কারণ, আইন মোতাবেক মাসে অন্তত একটা অধিবেশন না হলে পুর-বোর্ড ভেঙে (ডিফাং) যাবে। এই পরিস্থিতিতে আজ, শুক্রবার কালীঘাটে নিজের বাড়িতে কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলারদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুরসভা সূত্রে খবর, পুর-কমিশনার স্মিতা পান্ডের নির্দেশেই একপ্রকার ‘নিরুপায়’ হয়েই অধিবেশন বাতিলের নির্দেশিকা জারি করেন পুরসচিব স্বপনকুমার কুণ্ডু। প্রোটোকলের বাইরে এটা করা নিয়ে কমিশনারের সঙ্গে স্বপনবাবুর ঘোর মতবিরোধ হয়। সূত্রের খবর, প্রশাসনিক শীর্ষমহলের এক কর্তা স্বপনবাবুকে এই নির্দেশিকা জারি করতে ‘চাপ’ দিয়েছেন। গত সোমবারের মেয়র পরিষদ বৈঠক বাতিল হওয়া নিয়েও স্বপনবাবুর সঙ্গে স্মিতাদেবীর মনোমালিন্য হয়েছিল। তার জেরে বৃহস্পতিবার, পুরসচিবের পদ থেকে স্বপনবাবুকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নয়া সচিব করা হয়েছে কিশোরকুমার বিশ্বাসকে।
পুরসভার অন্দরে গুঞ্জন, কমিশনারের বিরুদ্ধে পুর-অধিবেশনে ইমপিচমেন্ট মোশন আনতে চেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের হাইকমান্ড। বেহালার এক কাউন্সিলারকে দিয়ে সেই মোশন আনতে চায় তৃণমূলের শীর্ষ মহল। যদিও, ফিরহাদ, মালা সহ বেশিরভাগ কাউন্সিলার দলকে জানিয়েছে, এমন মোশন আনা অনুচিত হবে। মনে করা হচ্ছে, সেই খবর পেয়েই কমিশনার পুরসভার অধিবেশন বাতিল করতে উঠেপড়ে লাগেন। এদিকে এসব জটিলতার মধ্যে ফিরহাদ হাকিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন বলেই জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, আজ দুপুর দেড়টা নাগাদ সমস্ত কাউন্সিলারকে পুরসভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। যদিও কতজন কাউন্সিলার উপস্থিত থাকবেন তা স্পষ্ট নয়। মালা রায় বলেন, অধিবেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত আমার নয়। আমি কিছুই জানতাম না। আইনি ক্ষমতাবলে অধিবেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত একমাত্র পুরসভার চেয়ারপার্সনই নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে নির্বাচিত বোর্ডের কাউন্সিলারদের স্পিকার হিসাবে কলকাতা পুরসভায় আমি চেয়ারপার্সন। আমাকে না জানিয়ে অধিবেশন বাতিলের নির্দেশিকা জারি করা হলেও, তা বৈধ নয়। কাউন্সিলাররা পুরসভায় আসবেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দিনভর বিতর্কের মাঝে বিকেলে মেয়র এবং পুর কমিশনার সাক্ষাৎ হয়। সূত্রের খবর, ফিরহাদ কমিশনারকে পরামর্শ দিয়েছেন, এই পুর-বোর্ডের মেয়াদ আর কয়েক মাসের। এর মধ্যে ব্যক্তিগত তিক্ততা সরিয়ে সহযোগিতার ভিত্তিতে চালানো দরকার। পুরসভার আইন অনুযায়ী, মাসে অন্তত একটা অধিবেশন করতেই হবে। না হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। পুরসভার বোর্ড ‘ডিফাং’ হয়ে যাবে। তখন হয় অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করতে হবে, না হলে ভোট করাতে হবে। সূত্র জানাচ্ছে, এর পরেও যদি অধিবেশন না করা যায়, তাহলে পুর-বোর্ডের তরফে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে চিঠি পাঠানো হতে পারে। এদিকে, আজ বিকেল চারটে নাগাদ কালীঘাটে পুরসভার সমস্ত দলীয় কাউন্সিলারের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর বৈঠকে ফের তুমুল অশান্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।