নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দামোদর, অজয়ের বৈধ ঘাট থেকে বালি তোলার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। বিগত বছরগুলিতে জেলায় বৈধর তুলনায় অবৈধ ঘাটের সংখ্যা বেশি ছিল। বালি মাফিয়ারাই রাজ চালাত। এবার তা বন্ধ করাই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার সমস্ত অবৈধ ঘাট বন্ধ করে রাজস্ব বাড়ানোর টার্গেট নিয়েছে। জেলা প্রশাসনও মাফিয়ারাজ বন্ধ করার জন্য বিশেষ টিম তৈরি করেছে। কিন্তু তারপরও মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য কতটা বন্ধ করা যাবে তা নিয়ে অনেকেই সংশয়ে। এক আধিকারিক বলেন, অবৈধ ভাবে মজুত করা বালি নিলাম করে এবার রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। চলতি মরশুমে বালিঘাটগুলি থেকেও ব্যাপক পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গলসি, জামালপুর, মঙ্গলকোট, খণ্ডঘোষ এবং রায়নায় গত বছরগুলিতে অবৈধ বালিঘাটের সংখ্যা বেশি ছিল। বাইরের জেলার চালান এনেও মাফিয়ারা বালি বিক্রি করেছে। নকল চালানও তৈরি করেছিল। গলসির এক বালি ব্যবসায়ী এই চক্রের মাস্টার মাইন্ড ছিলেন। তাঁর অফিসেও পুলিশ অভিযান চালায়। কম্পিউটার সহ বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়। সেই সময় তৃণমূল নেতাদের হাত তাঁর মাথার উপর থাকায় তিনি রক্ষা পেয়ে যান। পালাবদলের পর তিনি জার্সি বদল করে ফেলেছেন বলে অভিযোগ। বিজেপি নেতা তথা গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, অনেকেই জার্সি বদল করে বালির অবৈধ কারবার করার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু তাদের সেই ইচ্ছে পূরণ হবে না। একটিও অবৈধ বালির ঘাট চলতে দেওয়া হবে না। নকল চালান তৈরি করলে জেলে যেতে হবে। তৃণমূলের জমানায় বালি মাফিয়ারাই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করত। প্রশাসন তাদের চিহ্নিত করেছে।
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, আমরা কখনওই বালি মাফিয়াদের মদত দিইনি। কিন্তু কয়কটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখলাম বালির ঘাটের দখল নিয়ে বিজেপি নেতারা লড়াই করছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, যারা বালির কারবার করে, তাদের প্রত্যেককে সতর্ক করা হয়েছে। নিয়ম মেনে ব্যবসা করবে। কেউ অবৈধ কারবার করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে গিয়ে বালি তোলা যাবে না। চালান ছাড়া একটি ট্রাকও ঘাট থেকে বাইরে যাবে না। অনেকে ট্রাকটরেও বালি পাচারের চেষ্টা করে। এবার সেসব হবে না। প্রতিটি ঘাটেই নজরদারি চলবে। ট্রাক বা ডাম্পারে অতিরিক্ত বালি নিয়ে গেলে মোট টাকা জরিমানা করা হবে।



