সংবাদদাতা, বোলপুর: হাসপাতালের প্রবেশপথে প্রশাসনের তরফে লাগানো হয়েছে ‘দালাল হইতে সাবধান’ পোস্টার। জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য টাকা লাগে না। অবৈধ উপায়ে শংসাপত্র তৈরি বা ডিজিটাল করার নামে টাকা লেনদেন আইনত অপরাধ। সরকারি রসিদ ছাড়া কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে এই সচেতনতা বার্তা ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে।
হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে তৃণমূল সরকারের সময়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। রক্ত জোগাড় করে দেওয়া, বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা করানো কিংবা সিটি স্ক্যানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে রোগীর পরিজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছিল। অথচ হাসপাতালে বিনামূল্যে সিটি স্ক্যান সহ বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রোগীর পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে দালালরা টাকা আদায় করত বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল।
তবে রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপির নতুন সরকার গঠন হতেই হাসপাতাল চত্বরে দালালদের দৌরাত্ম্য কমেছে বলে দাবি রোগীর পরিজনদের। সোমবার হাসপাতালে এসে তাঁরা জানান, আগের মতো দালালের সাহায্য নিতে হচ্ছে না। এতে গরিব রোগীদের পরিবার স্বস্তি পেয়েছে। নানুরের মঞ্জিলা বিবি, ইলামবাজারের পাপাই মাল বলেন, আগে পরীক্ষা করানো ছবি তোলা কিংবা রক্তের প্রয়োজন হলে দালালের খপ্পরে পড়তে হত। পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা টাকা দিতে হত। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের অনেক সুবিধা হয়েছে। সম্প্রতি এসএসকেএম হাসপাতালে রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি হাসপাতালে রোগী ফেরানো বন্ধ করার পাশাপাশি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালেও প্রশাসনের সতর্কবার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার দিবাকর সর্দার বলেন, আশা করছি, দালালচক্র অনেকটাই নির্মূল করা গিয়েছে। দালাল চক্র আটকাতে আমরা সদা সতর্ক রয়েছি।



