নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: এসআইআর সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তি জেলা প্রশাসনের। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র ভোটারদের শুনানি কেন্দ্র বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের পাশাপাশি নদীয়া জেলাতেও শুনানি কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়বে। ব্লক অফিসের পাশাপাশি পঞ্চায়েত অফিসেও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় থাকা ভোটারদের শুনানি হবে। এতে বিডিও অফিসগুলিতে চাপ অনেকটাই কমবে বলে প্রশাসনের আশা। তবে এই রায়ের পাশাপাশি কিছু বিষয় নিয়ে ধন্দে পড়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। কারণ নদীয়া জেলা জুড়ে ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ সন্দেহজনক ভোটারের কাছে বিডিও অফিসে হাজির হওয়ার জন্য শুনানির নোটিস পৌঁছেছে।
কমিশন সূত্রে খবর, ওই সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষের কাছাকাছি। নোটিসগুলিতে সংশ্লিষ্ট শুনানির স্থান ও সময় উল্লেখ রয়েছে। এদিকে সুপ্রিম কোর্ট সোমবার জানিয়েছে, পঞ্চায়েত, ব্লক ও এসডিও অফিসে সন্দেহজনক ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করার ১০ দিনের মধ্যে শুনানি সম্পন্ন করতে হবে। এখানেই প্রশাসনিক স্তরে ধন্দ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতিতে কি আবার সমস্ত সন্দেহভাজন ভোটারকে নতুন করে নোটিস দিতে হবে, নাকি যাঁদের এখনও নোটিস দেওয়া হয়নি, শুধুমাত্র তাঁদের নামেই নোটিস পাঠাতে হবে?
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় মোট পাঁচ লক্ষ ২৫ হাজার সন্দেহজনক ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে চার লক্ষ ভোটারের নামে নোটিস ইস্যু হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত ২ লক্ষ ৮০ হাজার ভোটারের কাছে নোটিস পৌঁছেছে। পাশাপাশি জেলাজুড়ে প্রায় ৭১ হাজার সন্দেহভাজন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। তবে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের বিডিও অফিসে শুনানি নিয়ে প্রশাসন উদ্বিগ্ন ছিল, বিশেষ করে চাপড়া, কালীগঞ্জ ও পলাশীপাড়া বিধানসভা এলাকায় সন্দেহভাজন ভোটারের সংখ্যা ৪৫ থেকে ৬০ হাজারের মতো।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, পঞ্চায়েত, ব্লক এবং এসডিও অফিসে সন্দেহভাজন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। সেইসঙ্গে বহু ভোটারের শুনানির স্থান পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এবার পঞ্চায়েতেও শুনানি করা যাবে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে বড় জয় হিসেবেই দেখছে ঘাসফুল শিবির। কারণ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারদের শুনানির নামে হয়রানি করা নিয়ে সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।
সোমবার চাপড়া মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা নাজু বিবি শেখ চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতাল থেকেই সরাসরি ব্লক অফিসের শুনানির জন্য আসেন। স্যালাইনের বোতল হাতে শুনানিতে সামিল হন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই মহিলা বলেন, শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু, শুনানির জন্য বিডিও অফিসে আসতে হল। চাপড়া তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুকদেব ব্রহ্ম বলেন, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির মানবিকতা বলে কিছু নেই। মানুষের হয়রানির এটা একটা জ্বলন্ত উদাহরণ। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি কিছুটা ব্যাকফুটে পড়ে গিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তার প্রভাব পড়েছে বিজেপির ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার কর্মসূচিতেও। বিভিন্ন ব্লকের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তৃণমূল-কর্মী সমর্থকরা জমায়েত করলেও দেখা পাওয়া যায়নি বিজেপিকে। বেশ কিছু জায়গায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা এলেও তাঁদের ফিরে যেতে হয়েছে।