Bartaman Logo
২৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গভীর রাতে নেতার বাড়িতে হামলা কর্মীদের, আক্রান্ত স্ত্রী-পুত্র, বিজেপির সংঘাত তারকেশ্বরেও

ভরসার রাজত্বে ভয় ইন? বিজেপি নেত্রী ও তাঁর নাবালক সন্তান আক্রান্ত হলেন দলেরই সমর্থকদের হাতে

গভীর রাতে নেতার বাড়িতে হামলা কর্মীদের, আক্রান্ত স্ত্রী-পুত্র, বিজেপির সংঘাত তারকেশ্বরেও
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ভরসার রাজত্বে ভয় ইন? বিজেপি নেত্রী ও তাঁর নাবালক সন্তান আক্রান্ত হলেন দলেরই সমর্থকদের হাতে। রাতের বেলা বাড়িতে গিয়ে হামলার এই ঘটনা ঘটেছে হুগলির তারকেশ্বরে। তাও আবার যে সে বিজেপি নেতার বাড়িতে নয়! খোদ আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহসভাপতির বাড়িতে চলে দলের সমর্থকদের তাণ্ডব। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গণেশ চক্রবর্তী নামে ওই নেতা। তিনি জানিয়েছেন, সোমবার রাতে তাঁর স্ত্রী তথা তারকেশ্বরের ৪ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সম্পাদক মিতা চক্রবর্তী ও নাবালক সন্তানের উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে। মিতাদেবীর হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শাবলের আঘাতে নাবালক সন্তানের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জেলার রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে যায়। 

Advertisement

তাৎপর্যপূর্ণ হল, ঘটনার সঙ্গে পরোক্ষে জড়িয়ে গিয়েছে ঋতব্রত-তৃণমূলের আরামবাগ জেলা সভাপতি উত্তম কুণ্ডুর নাম। তাতে বিজেপির অন্তর্কলহ আরও বেআব্রু হয়েছে। তারকেশ্বর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তমকে পুলিশ সম্প্রতি গ্রেপ্তার করে হেপাজতে নিয়েছে। গণেশবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই মামলা হয়েছিল। মঙ্গলবার গণেশবাবু স্পষ্ট বলেন, ‘দলের কয়েকজন কেষ্টবিষ্টু চেয়েছিলেন উত্তম কুণ্ডুর বেআইনি কার্যকলাপ নিয়ে আমি চুপ থাকি। আমি তা করিনি। তাতেই ওদের আঁতে ঘা লেগেছে। দলের এক মণ্ডল সভাপতিসহ ৬ জনের নামে অভিযোগ করেছি। দলকেও সবটা জানিয়েছি। দুর্ভাগ্য এই যে, তৃণমূল আমলেও আমি আক্রান্ত হয়েছিলাম। আজ বিজেপির রাজত্বেও আক্রান্ত হলাম।’ মিতাদেবী বলেন, ‘রাতের বেলা একজন মহিলার উপর হামলা হচ্ছে। আমার সন্তানকে নির্মমভাবে আঘাত করা হচ্ছে। দল কী করে দেখি।’ বিষয়টি নিয়ে দলই যা করার করবে বলে জানাচ্ছেন তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পানও। তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন সবার জন্য সমান। দলের জেলা সভাপতি বিস্তারিত বলবেন।’ আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, ‘দলের কেউ হামলায় জড়িত নয়। ৪মের পর অনেকেই বিজেপি হয়েছে। গণেশবাবুকে প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে বলেছি।’ কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে সিপিএম। হুগলি জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘ভয় আউট, ভরসা ইন-এর জমানায় বিজেপি নেতা-নেত্রীই নিরাপদ নয়। রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী আশা করি বিবৃতি দিয়ে সত্যটা জানাবেন।’
স্থানীয় সূত্রে খবর, গণেশবাবুর তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙার বাড়িতে সোমবার রাতে আচমকাই একদল বিজেপি সমর্থক হানা দেয়। তাঁরা গণেশবাবুকে খুঁজতে এসেছিলেন। গণেশবাবুর স্ত্রী তথা মণ্ডল কমিটির নেত্রী মিতাদেবী বাইরে বেরিয়ে এলে তাঁর উপরে আক্রমণ হয়। তাঁর ছেলে মাকে বাঁচাতে গেলে তার মাথা ফাটিয়ে দেয় হামলাকারীরা। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।  নিজস্ব চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ