নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা, হবিবপুর: ট্যাব কেলেঙ্কারিতে পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে কেন্দপুকুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ক্লার্ককে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দুলাল মণ্ডল ও ক্লার্ক রাজেশ চৌধুরীকে শুক্রবার ভোরে মালদহের যথাক্রমে বুড়াবুড়িতলা এবং ছাতিয়ার মোড় এলাকায় থাকা তাঁদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিনই তাঁদের মালদহ জেলা আদালতে তুলে নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে সিআইডি।
জানা গিয়েছে, এক বছর আগে ওই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ১৭৫ জন পড়ুয়াকে ট্যাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ও ক্লার্কের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যস্তরেও তদন্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল। তদন্তের পর অবশ্য দাবি ওঠে, ট্যাব সংক্রান্ত অনিয়মের সঙ্গে বিদ্যালয়ের কোনো কর্মীর সরাসরি যোগ নেই। জলপাইগুড়ির এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলেও স্কুলের তরফে জানানো হয়েছিল। ঘটনার পরে মামলা পুলিশের হাত থেকে সিআইডির হাতে যায়। এরপর থেকেই তদন্ত চালাচ্ছিলেন সিআইডির আধিকারিকেরা। সেই ঘটনার প্রায় এক বছর পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সিআইডির তরফে ওই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জাল নথি তৈরি করা, টাকা আত্মসাৎ করার মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে। সমস্ত অভিযোগের বিস্তারিত তদন্ত করতে অভিযুক্তদের হেপাজতে নিয়েছে সিআইডি। এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের কারোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিচালন সমিতির তরফেও কেউ মন্তব্য করতে চাননি। কেন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং ক্লার্ককে গ্রেপ্তার করা হল, সেই বিষয়ে কেউ কোনো সঠিক তথ্য জানেন না বলে দাবি করেছেন পরিচালন সমিতির সদস্যরা।