Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আচমকা বেড়েছে ইমারতি সামগ্রীর দাম, রাজমিস্ত্রির খরচ উত্তর ২৪ পরগনায় বিপাকে  উপভোক্তারা

আচমকা বেড়েছে ইমারতি সামগ্রীর দাম, রাজমিস্ত্রির খরচ উত্তর ২৪ পরগনায় বিপাকে  উপভোক্তারা
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তারপরই এলাকায় এলাকায় শুরু হয়ে গিয়েছে নতুন বাড়ি তৈরির তোড়জোড়। কিন্তু উপভোক্তারা বাড়ি তৈরির সামগ্রী কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। কারণ, ১০ দিন আগেও ইমারতি সামগ্রীর যা দাম ছিল, এখন তা বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। সেই সঙ্গে রাজমিস্ত্রিরাও তাঁদের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে সমস্যা বাড়ছে গরিব উপভোক্তাদের। এভাবে আচমকা ইমারতি সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারির দাবিও উঠছে। 
Advertisement
উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ৫৬ হাজার নতুন বাড়ি তৈরি হবে এই প্রকল্পের আওতায়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফার ৬০ হাজার টাকায় বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করলে তবেই দ্বিতীয় দফার ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এর জন্য তিন মাস সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। তাই, দাম কমার জন্য বসে থাকারও জো নেই। এরকম এক মোক্ষম সময়েই বেড়ে গিয়েছে ইট, বালি, পাথরের দাম এবং রাজমিস্ত্রিদের পারিশ্রমিক। কিছুদিন আগেও ১ হাজার ইটের দাম পড়ছিল ১২-১৪ হাজার টাকা। এখন তা প্রায় ১৫ হাজার টাকা। টিএমটি বারের দামও কুইন্টাল প্রতি সাত হাজার থেকে বেড়ে সাড়ে সাত হাজার হয়েছে। বালির দাম লরি পিছু বেড়েছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। এছাড়া সিমেন্টের দামও বস্তা পিছু প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে আগে রাজমিস্ত্রিকে প্লাস্টার সহ স্কোয়ার ফুট হিসেবে দিতে হতো ২১০ থেকে ২৩০ টাকা। কিন্তু সরকারি এই বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্দিষ্ট থাকায় প্রতি বর্গফুটে ১০ থেকে ১৫ টাকা করে পারিশ্রমিক বেশি দাবি করছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে এক ধাক্কায় খরচ বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। 
কেউ কেউ জমানো টাকা ও সরকারি প্রকল্পে প্রাপ্ত টাকা যোগ করে একটু ভালো বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। আচমকা এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে মাথায় হাত পড়েছে তাঁদের। বিশ্ব পাকড়ে নামে হাবড়ার এক রাজমিস্ত্রি বলেন, ‘সরকারি বাড়ি তৈরি চলছে বলে আচমকা আমাদের চাপ অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। তাই কর্মীদের কিছুটা হলেও মজুরি বেশি দিতে হচ্ছে।’ বারাসত শহরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইমারতি সামগ্রী ব্যবসায়ী বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকার কারণে দাম বাড়ছে।’ দত্তপুকুরের জনৈক শ্রীমন্ত সাহা বাড়ি তৈরির টাকা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘টাকা ঢোকার আগে দোকানে গিয়ে জিনিসপত্রের যে দাম জেনে এসেছিলাম, এখন গিয়ে দেখছি, অনেকটাই ফারাক। কী কারণ, জানি না। প্রশাসন ঠিকমতো নজর দিলে আসল কারণ নিশ্চয়ই জানা যাবে।’
সম্পর্কিত সংবাদ