শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে সরকারি আইনজীবী ও তদন্তকারী অফিসারকে খতমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুনের মামলায় জেলবন্দি দুই দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলে পরিণতি মারাত্মক হবে। যেভাবে সরকারি আইনজীবী ও তদন্তকারী অফিসারকে দুজনকে তারা শাসিয়েছে, তা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে আদালতে। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে জেলবন্দি দুই অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে হাওড়া থানা।
হাওড়া সিটি পুলিস সূত্রে খবর, লিলুয়া থানা এলাকায় ২০২২ সালে গুলি চালিয়ে একটি খুনের ঘটনা ঘটে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয় মূল অভিযুক্ত রাজেশ ও পীযূষ। লিলুয়া থানায় ওই সময়ে কর্মরত সাব ইনসপেক্টর শম্ভুনাথ ধর ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত শেষ করে তিনি চার্জশিট জমা দেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে এখনও জেলবন্দি দুই অভিযুক্ত। ইমিতধ্যেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীসহ একাধিক ব্যক্তির সাক্ষী গ্রহণ হয়েছে আদালতে। মামলায় তদন্তকারী অফিসারের সাক্ষীর জন্য সমন পাঠায় আদালত। সেইমত বর্তমানে হাওড়া সিটি পুলিসে কর্মরত ওই অফিসার সাক্ষী দিতে আসেন কয়েকদিন আগে। ওইদিন আদালতে নিয়ে আসা হয় খুনের ঘটনায় দুই অভিযুক্তকেও। তদন্তকারী অফিসার ও সরকারি আইনজীবীকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দুই অভিযুক্ত। আদালত চত্বরেই দুজনকে শাসায় অভিযুক্তরা। সরকারি আইনজীবীকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, কোনওভাবেই যেন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য করানো না হয়। যদি তিনি সেটি করেন, তাহলে খুন করা হবে তাঁকে। এরপর তদন্তকারী অফিসারকেও খুনের হুমকি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দান থেকে বিরত থাকতে বলে। যদি এরপরেও সাক্ষ্য দেন, তাহলে আদালতের বাইরে তাদের ছেলেরাই তাঁকে দেখে নেবে।
এরপরই বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন সরকারি আইনজীবী। বিচারকের নির্দেশে হাওড়া থানা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। হাওড়া আদালতের সরকারি আইনজীবী তারাগতি ঘটক বলেন, ওই দু’জনকে হেফাজতে নিয়েছে হাওড়া থানা। পুলিস জেনেছে, রাজেশ ও পীযূষ জেলে বসে বিষয়টি পরিকল্পনা করে। ঠিক করে, যেদিন তদন্তকারী অফিসার আসবেন সাক্ষী দিতে, সেদিনই খুনের হুমকি দেওয়া হবে। কিন্তু জেলে কী করে তারা ফোন পেল, সেটাই প্রশ্ন।