লখনউ: মাত্র তিনদিনের মধ্যে দু’দুটি পুলিশি এনকাউন্টারের সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশ। বিয়ের প্রস্তাব অগ্রাহ্য করায় এক মহিলা এবং তাঁর চার শিশু সন্তানকে খুনে অভিযুক্ত আমিরকে সোমবার এনকাউন্টারে খতম করে আম্বেদনগর পুলিশ। আর বুধবার সাত বছরের এক বালককে অপহরণ, যৌন হেনস্তা এবং খুনে মূল অভিযুক্ত মাহনুর ওরফে শাহনুর ওরফে মেহনুদ্দিনকে হরদোইতে খতম করা হল। পুলিশ জানিয়েছে, মেহনুদ্দিন একজন দাগি অপরাধী। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে।
হরদোই জেলা পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার দাদুর থেকে ২০ টাকা নিয়ে উরস মেলায় গিয়েছিল সাত বছরের এক বালক। তার বাবা স্থানীয় মসজিদের হাফিজ। সন্ধ্যার পরও বাড়ি না ফেরায় খোঁজ খবর শুরু করেন আত্মীয়-প্রতিবেশীরা। পুলিশের কাছে নিখোঁজের ডায়েরিও করেন বাবা। পরদিন ৭ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে অপরহরণকারীদের থেকে ফোন পান তিনি। তাঁকে ইউপিআইতে ১০০ টাকা পাঠাতে বলা হয়। বাকি টাকা জোগাড়ের জন্য সময় দেওয়া হয়।
হরদোইয়ের পুলিশ সুপার অশোক মিনা জানিয়েছেন, সেই ফোন পেয়ে বালকের বাবা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আর কোনো মুক্তিপণ দেবেন না বলে অপহরণকারীদের জানিয়ে দেন। মুক্তিপণের ফোন কল সূত্রে কানপুর থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে শিশুর দেহের সন্ধান মেলে। মঙ্গলবার বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে একটি ভুট্টা জমিতে খনন চালিয়ে শিশুটির দেহ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি অপহরণে মূল পান্ডা যে মেহনুদ্দিন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। হরদোই শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে বাবদমাউতে এদিন ভোর তিনটে নাগাদ একটি মোটর সাইকেলকে আসতে দেখে দাঁড়াতে বলে পুলিশ। তবে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাতে জখম হন এসওজি ইনচার্জ রাজেশ কুমার। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের পালটা গুলিতে জখম হয় মেহনুদ্দিন। তার বুকে গুলি লাগে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে।