নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারকের এটিএম কার্ড হাতিয়ে প্রায় ৭৭ হাজার টাকা প্রতারণার মামলায় সাড়ে চার পরেও ধরা পড়েনি অভিযুক্ত। কলকাতার নেতাজিনগর থানা এলাকার বাসিন্দা ওই অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নাম শান্তনু রায়। পুলিশি তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে অভিযোগকারী বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত শম্বুক গতিতে এগনোয় আদৌ এর কিনারা হবে কি না, সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে। পুলিশি তদন্তে আমি হতাশ।’ দক্ষিণ ২৪ পরগনার যে থানায় এই জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা দায়ের হয়েছিল, সেই নরেন্দ্রপুর থানার তদন্তকারী অফিসার বিশ্বজিৎ পাল বলেন, তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। বিষয়টি সর্বত্র জানানো হয়েছে। আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ অক্টোবর সকালে গড়িয়ায় একটি এটিএমে ঢুকেছিলেন শান্তনুবাবু। অভিযোগ, সেখানে এটিএমের সামনে লাইন ছিল। ওই লাইনে দাঁড়ানো এক যুবক তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে এবং তাঁর কার্ড দিয়ে তিন হাজার টাকা তুলে দেয়। তিনি টাকা গোনার ফাঁকেই মেশিনে থাকা কার্ডটি বদল করে দিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেয় যুবক। তারপর অভিযুক্ত যুবক শান্তনুবাবুর কার্ড ব্যবহার করে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার একটি এটিএম থেকে দফায় দফায় ৩৭ হাজার টাকা তুলে নেয়। অভিযোগ, পরে ওই কার্ড দিয়ে একটি সোনা ও মদের দোকানে ৪০ হাজার টাকা পেমেন্টও করা হয়। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে বিচারক প্রথমে নেতাজিনগর থানায় এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে জানতে পারে, ঘটনাটি ঘটেছে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায়। তাই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সহ নানা তথ্য পুলিশের হাতে থাকলেও অভিযুক্ত অধরাই থেকে গিয়েছে। শনিবার ওই বিচারক বলেন, ‘জেলা পুলিশের কর্তাদের বিষয়টি জানানো হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি।’



