Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূল বুথ সভাপতি খুনে অভিযুক্তই মঙ্গলকোটে বিজেপি প্রার্থী, চর্চা তুঙ্গে

বিধানসভা ভোটের আগেই পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল মঙ্গলকোটের তৃণমূলের বুথ সভাপতি সঞ্জিত ঘোষ ওরফে কালুকে। সেই খুনে অভিযুক্ত শিশির ঘোষকে মঙ্গলকোট বিধানসভার প্রার্থী করে বিজেপি।

তৃণমূল বুথ সভাপতি খুনে অভিযুক্তই মঙ্গলকোটে বিজেপি প্রার্থী, চর্চা তুঙ্গে
  • ২০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বিধানসভা ভোটের আগেই পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল মঙ্গলকোটের তৃণমূলের বুথ সভাপতি সঞ্জিত ঘোষ ওরফে কালুকে। সেই খুনে অভিযুক্ত শিশির ঘোষকে মঙ্গলকোট বিধানসভার প্রার্থী করে বিজেপি। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলকোটের তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব চৌধুরী বলেন, বিজেপির সব খুনে অভিযুক্তদের নিয়েই কাজ। গ্রামের মানুষই বিচার করবেন, তাঁরা কাকে আগামীদিনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে চান। 

Advertisement

২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে মঙ্গলকোটে তৃণমূলের বুথ সভাপতি  সঞ্জিত ঘোষ ওরফে কালু নিগন গ্রামে ফিরছিলেন। অভিযোগ, গ্রামে ঢোকার মুখে একটি হনুমান মন্দিরের কাছে বিজেপির নেতাকর্মীরা লাঠি, রড, শাবল নিয়ে অপেক্ষা করছিল। সঞ্জিতবাবু সেখানে আসতেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। পরে তিনি মারা যান। নিহত তৃণমূল নেতার বাবা সাগর ঘোষ বিজেপির ৩৬ জনের নামে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তিনি লিখিত অভিযোগে পুলিশকে জানিয়েছিলেন, নিগন গ্রামের ভিতরে বিজেপির সংসদ সদস্য সৌমিত্র খাঁ একটি কালাদিবস উপলক্ষ্যে সভা করেছিলেন। সেখানে সৌমিত্র খাঁ ছাড়াও বিজেপির নেতা শিশির ঘোষ সহ অন্যান্য নেতারা উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন। তারপরেই বিজেপি নেতা শিশির ঘোষের নেতৃত্বে সঞ্জিত ঘোষের উপর হামলা চালানো হয়। এরপর শিশির ঘোষকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। পাঁচদিন জেল খেটে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। মামলাটি এখনও চলছে। 
মঙ্গলকোটের বিজেপি প্রার্থী শিশির ঘোষ বলেন, সবাই জানে মিথ্যা খুনের মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছিল। সঞ্জিত ঘোষ সম্পর্কে আমার ভাইপো হয়। আমি যে তাঁকে খুন করিনি, এটা ওদের পরিবারের সবাই জানে। মানুষ বিচার করবেন। 
এদিন নিগন গ্রামের তৃণমূলের একটা বড় অংশ বলছেন, যার দু’ হাতে এখনও আমাদের কর্মীর রক্ত লেগে আছে, যে নেতা সবসময়ে গ্রামে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখে, তাকেই গেরুয়া শিবিরের বড় পছন্দ। মঙ্গলকোটে আগের বার বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এবার তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। মানুষ দেখেছেন কারা সেদিন একটা জলজ্যান্ত পরিবারকে পথে বসিয়েছে। তারা সেই রাতের কথা কোনোদিন ভুলবে না। বিজেপি মুখে বড় বড় কথা বলে, কেন একজন খুনে অভিযুক্তকে প্রার্থী করল সেটা সবাই বুঝবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ