নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাতারে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজের আড়ালে বিদেশে বসে বেআইনি কল সেন্টারের টাকা ‘পার্ক’ করা চলছিল। জমা করা হচ্ছিল কাতারের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে। এমনকী ক্রিপ্টো কারেন্সিতেও বদল চলছিল। পুরো কাজটাই করছিল কলকাতার বাসিন্দা এক যুবক। অসুস্থ মাকে দেখে সে ফিরে যাচ্ছিল কাতার। মুম্বই থেকে কাতারগামী বিমান ধরার আগেই সেখান থেকে লালবাজারের হাতে গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত জেরেথ স্টিফেন জোহান্স। তাকে কলকাতায় এনে রবিবারই ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়।
কয়েকদিন আগে ট্যাংরা এলাকা থেকে একটি বেআইনি কল সেন্টার চালানোর অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল লালবাজার। উদ্ধার হয় নগদ টাকা, এটিএম কার্ড এবং কমপিউটারসহ বিভিন্ন সামগ্রী। ধৃতদের জেরা করে জানা যায়, কলকাতায় বসে আমেরিকার নাগরিকদের প্রতারণা চলছিল। বিদেশিদের বলা হতো তাদের শাখা আছে কাতারে। সেখানে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতে বলা হতো। সেখানে এই অ্যাকাউন্টগুলি খুলেছে কলকাতার রিপন স্ট্রিটের বাসিন্দা জেরেথ। ট্যাংরার বেআইনি কল সেন্টারের কিংপিনদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তাদের কথামতোই সে এই অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার টাকা জমা করছে। এরপর তা আবার পার্ক করছে অন্য অ্যাকাউন্টে। এই টাকার একটা অংশ সে তুলে নিয়ে হাওলা করে কলকাতায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। বাকিটা ক্রিপ্টোতে বিনিয়োগ করছে।
পুলিস জেনেছে, সে কাতারে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করে। তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তদন্তকারীদের কাছে খবর পৌঁছয় অভিযুক্ত কলকাতায় মাকে দেখে ফিরছে কাতার। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সে মুম্বই বিমানবন্দরে নামবে। সেখান থেকে ফ্লাইট ধরে চলে যাবে দোহা। সেইমতো লালবাজারের গোয়েন্দারা পৌঁছে যান। বিমান থেকে নামতেই তাকে ধরা হয়। অভিযোগ, সে কলকাতার একাধিক কল সেন্টারের প্রতারণার টাকা এভাবে পার্ক করত। এর বিনিময়ে ভালো টাকা কমিশন পেত সে। সে কাদের টাকা পার্ক করতে সাহায্য করেছে ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছে পুলিস।