নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বারাকপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুকান্ত ঘোষ খুনে জড়িত এক অভিযুক্তকে ১৯ বছর পর উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর থেকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই। মঙ্গলবার তাকে পাকড়াও করা হয়। শিবু কুমার সিং নামে ওই ব্যক্তি সেখানকার রায়গঞ্জ রোড এলাকায় অখিলেশ কুমার শাহি নামে বসবাস করত। সিবিআই তাকে স্থানীয় আদালতে হাজির করে ট্রানজিট রিমান্ডে রাজ্যে আনছে। ২০০৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই এই কেসটি হাতে নেয়। বেশ কয়েক বছর আগে আরও ৪ জন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছিল। এই খুনের ঘটনায় তৎকালীন শাসক দল সিপিএমের স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা তথা জনপ্রতিনিধির ঘনিষ্ঠদের যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। ওই নেতার এক আত্মীয় গ্রেপ্তারও হয়। বেপাত্তা হয়ে যাওয়ার পর ২০১৬ সালে তাকে আদালত ‘ঘোষিত অপরাধী’ বলে চিহ্নিত করে।
২০০৭ সালের ৬ জুলাই বারাকপুরের লাটবাগান এলাকার জহর কুঞ্জের কাছে নৃশংসভাবে খুন করা হয় সুকান্ত ঘোষকে। দেহে ধারালো অস্ত্রের ১৮টি আঘাত ছিল। মৃতের পরিবার অভিযোগ করে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী সিপিএম নেতার ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয়রা এই খুনের পিছনে আছে। তারা স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ‘প্রোটেকশন মানি’ চেয়ে না পাওয়ার খুন করেছে। বারকপুর পুলিশ ওই খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ও চার্জশিট দেয়। কিন্তু পুলিশি তদন্তে পরিবার সন্তুষ্ট ছিল না। অভিযোগ ছিল প্রকৃত অপরাধীদের পুলিশ আড়াল করছে। মৃত ব্যবসায়ীর ভাই অমিত সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই কে দেন। সিবিআই তদন্ত করে সিপিএম নেতার এক আত্মীয়কে গ্রেপ্তারও করে। কিন্ত সেই তদন্তেও সন্তুষ্ট না হয়ে মৃত ব্যবসায়ীর পরিবার ফের হাইকোর্টে যান। বিচারপতি সমাপ্তি চট্টেপাধ্যায় ২০১৭ সালে সিবিআই কে ‘সিট’ গঠন করে আদালতের নজরদারিতে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের প্রথম নির্দেশের পর সিবিআই এই মামলায় শিবু সিং সহ তিন জনের বিরুদ্ধে দুই দফায় চার্জশিট দেয়। শিবু পলাতক থাকার জন্য আদালতের নির্দেশে তাকে পলাতক অপরাধী বলে ঘোষণা করা হয় ২০১৬ সালে। সূত্রের খবর ও বিভিন্ন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে শিবুকে এতদিন পর ধরা গিয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে।