সুকান্ত বসু, কলকাতা: যুবতির আপত্তিকর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। জোড়াসাঁকো থানায় ২০২৩ সালে ১১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। ঘটনার প্রায় তিন বছর পর সোমবার ধরা পড়ল এক অভিযুক্ত। নাম মহম্মদ জুনেইদ। যা নিয়ে মঙ্গলবার প্রশ্ন তুলল ব্যাঙ্কশাল আদালত। খোদ বিচারক দিব্যেন্দু নাথ জোড়াসাঁকো থানার পুলিশি ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মামলার ঢিলেঢালা তদন্ত ও দীর্ঘসূত্রিতা দেখে তিনি চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন। অভিযোগকারিণীর কৌঁসুলি ফজলে আহমেদ খান এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা একাধিক। তার মধ্যে দীর্ঘ তিন বছর পর ধরা পড়ল মাত্র একজন অভিযুক্ত। তাহলে এতদিন এই মামলায় পুলিশ কী তদন্ত করেছে, তা সহজেই অনুমেয়। তদন্তের নামে হয়েছে প্রহসন।’
ধৃত অভিযুক্তকে মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জেল হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেন। সরকারি কৌঁসুলি দীপনারায়ণ পাকড়াশি ধৃতের জামিনের জোরালো আপত্তি জানান। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থেই অভিযুক্তের জামিনের আপত্তি জানাচ্ছে সরকার পক্ষ। যদিও যে কোনো শর্তে জামিনের আবেদন জানান ধৃতের কৌঁসুলিরা। বিচারক আবেদন নাকচ করে দেন। তবে এদিন অভিযোগকারিণীর কৌঁসুলি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এতদিন বাদে অভিযুক্ত ধরা পড়ল, অথচ সরকার পক্ষ কেন অভিযুক্তকে পুলিশ হেপাজতে না নিয়ে জেল হেপাজতের আরজি জানাল, সেটাই আমাদের কাছে আশ্চর্য লাগছে।’
২০২৩ সালের ২ অক্টোবর জোড়াসাঁকো থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন অভিযোগকারিণী যুবতি। তাঁর অভিযোগ ছিল, সমাজমাধ্যমে আলাপ হয়ে ছিল এক যুবকের সঙ্গে। পরবর্তী সময় তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় হয়। সেই সুযোগে তাঁর কিছু আপত্তিকর ছবিও তোলেন যুবক। সেই ছবি নানাভাবে অন্য অভিযুক্তদের হাতে আসে। এরপরই যুবতিকে সেই ছবির কথা বলে ফোন করে টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকী তাঁকে বলা হয়, টাকা না দেওয়া হলে ওই সমস্ত আপত্তিকর ছবি ভাইরাল করে দেওয়া হবে। যুবতি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, একত্রে ষড়যন্ত্র করে অভিযুক্তরা এই অসৎ কাজে লিপ্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে এই মামলায় তিন অভিযুক্ত কলকাতা নগর দায়রা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু তা বাতিল হয়ে যায়।