


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হতেই পরিবার নিয়ে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিল অভিযুক্ত যুবক। পুলিশ তার আর কোনো হদিশ পায়নি। ন’বছর ধরে ফেরার ছিল অভিযুক্ত। বেশভূষা বদলে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর জয়প্রকাশনগরের একটি দরগায় সে ধার্মিক মানুষ সেজে থাকতে শুরু করে। মোটা গোঁফ, লম্বা দাঁড়ি রেখে ছদ্মবেশে আত্মগোপন করেছিল। এতসব ফন্দি করেও রেহাই পেল না অভিযুক্ত। একেবারে ফিল্মি কায়দায় ডেলিভারি বয় সেজে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আনল পাইকর থানার পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম সাদ মহম্মদ শেখ(৩৮)। তার বাড়ি পাইকর থানার জাজিগ্রামে। ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালে। পাইকর থানা এলাকার বছর ১৪-র এক নাবালিকা গ্রামের একটি দেওয়ালে ঘুঁটে দিচ্ছিল। সেই সময় সাদ মহম্মদ তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ওই ছাত্রী বাড়ি ফিরে পরিবারকে তার উপর হওয়া অত্যাচারের কথা জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ পকসো আইনের ধারায় মামলা শুরু করে। এদিকে থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই বাবা, মা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেপাত্তা হয়ে যায় অভিযুক্ত। সেই সময় পুলিশ তদন্তে নেমে তার হদিশ পায়নি। আদালত তৎকালীন ওসিকে ভর্ৎসনা করে। পুলিশের উপর মহলে চিঠি পাঠায়। পরবর্তীতে রামপুরহাট আদালত অভিযুক্তর নামে ওয়ারেন্ট জারি করে। মাস দু’য়েক আগে বিচারক অভিযুক্তকে আদালতে হাজিরা করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে একমাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়। এরপরই পুলিশ অভিযুক্তর খোঁজ পেতে স্পেশাল টিম তৈরি করে। সম্প্রতি সেই টিম খোঁজ পায়, বারাণসীর একটি দরগায় আত্মগোপন করে রয়েছে অভিযুক্ত। সেই মতো আটদিন আগে পুলিশের টিম বারাণসী যায়। নিশ্চিত হতে ছদ্মবেশে সেই দরগায় যায় পুলিশ। কিন্তু তখনও তার হদিশ পাইনি। আটদিন ধরে সেখানেই পড়েছিল পুলিশ। অবশেষে অভিযুক্তর নামে একটি পার্সেল এসেছে বলে ডেলিভারি বয় সেজে পুলিশ সেই দরগায় হাজির হয়। সেখানে পুলিশ জানায়, সাদ মহম্মদের নামে পার্সেল আছে। কিন্তু ঠিকানা ঠিকঠাক নেই। সেখানেই একজন জানায়, সাদ মহম্মদকে তিনি চেনেন এবং তিনিই দরগার নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে এসে তাকে দেখিয়ে দেন। যদিও সাদ মহম্মদ জানায়, সে কোনও অর্ডার দেয়নি। ছদ্মবেশে থাকা পুলিশ তাঁকে আধার কার্ড দেখাতে বলে। আধার কার্ড দেখানো মাত্রই পুলিশ তাকে ধরে ফেলে। মঙ্গলবার রাতে তাকে পাইকর থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দরগায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করত। তাকে যাতে কেউ চিনতে না পারে সেজন্য লম্বা দাঁড়ি, গোঁফ রেখে ধার্মিক সেজে থাকছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। বুধবার ধৃতকে রামপুরহাট আদালতের এসিজেএম কোর্টে হাজির করানো হয়। সরকারি আইনজীবী মণিরুল ইসলাম বলেন, বিচারক ধৃতকে আজ, বৃহস্পতিবার এডিজে কোর্টে হাজির করানোর নির্দেশ দিয়েছেন।