নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিতর্কের শুরু গেরুয়া উত্তরীয় ঘিরে! আর শেষ পর্যন্ত তা গড়াল হিজাব-বোরখা ইস্যুতে! উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত কলেজে পড়ুয়াদের পোশাককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে প্রকাশ্যে এল আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের মতপার্থক্য। ‘পোশাক ফতোয়া’র ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। কলেজের অন্দর থেকে রাজনৈতিক মহলে এখন এই ঘটনাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সূত্রের খবর, ক’দিন আগে বজরং দলের কয়েকজন ছাত্রসদস্য গেরুয়া উত্তরীয় পরে কলেজে আসেন। তা নিয়েই আপত্তি তোলে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেরুয়া উত্তরীয় পরে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয় ওই ছাত্রদের। যুক্তি ছিল, কলেজ কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বার্তা প্রদর্শনের জায়গা হতে পারে না। এই অবস্থানে আপত্তি জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেন বজরং দলের ছাত্ররা। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে বোরখা প্রসঙ্গ। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে বজরং দলের সদস্যদের বলতে শোনা যাচ্ছে, যদি গেরুয়া উত্তরীয় পরে কলেজে আসা নিয়ে আপত্তি থাকে, তা হলে ধর্মীয় পরিচয় বহনকারী অন্য পোশাকের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এটা কোনো মাদ্রাসা নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবার জন্য একই নিয়ম থাকা উচিত (ভাইরাল ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান)। মাত্র ৫২ সেকেন্ডের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যেও নানা মত উঠে এসেছে।
বারাসত সাংগঠনিক জেলার বজরং দলের নেতা প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘কয়েকজন ছাত্র গেরুয়া উত্তরীয় পড়ে কলেজে ঢুকছিল। তাতে আপত্তি করে এবিভিপি। এরপর আমাদের সংগঠনের সদস্যরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে। তখন বোরখা পরে কলেজে আসা নিয়ে আপত্তি করে তারা। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শুনেছে। সেই সম্পর্কিত ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হয়। আমরা সদস্যদের বলেছি, আমরা উভয়পক্ষ সমঝোতা করে বিষয়টি ঠিক করতে হবে। ভিডিয়ো ডিলিট করা হয়েছে। পরবর্তী ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা পরে জানাব।’ এনিয়ে অবশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি এবিভিপির। বারাসত কলেজ কর্তৃপক্ষও কোনো মন্তব্য করতে নারাজ। তাদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হবে। পোশাক নিয়ে নির্দেশিকা দিলে সেই মতো কাজ হবে। নিজস্ব চিত্র