Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসের টাকা তুলে প্রেমিককে নিয়ে চম্পট বধূ,  বাড়ি নির্মাণে অনিশ্চয়তা, বিডিওর দ্বারস্থ স্বামী 

আবাসের টাকা তুলে প্রেমিককে নিয়ে চম্পট বধূ,  বাড়ি নির্মাণে অনিশ্চয়তা, বিডিওর দ্বারস্থ স্বামী 
  • ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ঘরের টাকায় ঘর ভাঙলেন নন্দীগ্রামের এক বধূ! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বনশ্রী গৌরী গ্রামের বাসিন্দা অসিত বরের স্ত্রী সুস্মিতা। আবেদনকারী স্ত্রীর নামে টাকা এলেও পাকাবাড়ি করবেন বলে খুশিতে আত্মহারা ছিলেন অসিত। প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিমেষেই তাঁর সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। কাঠগোড়ায় স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক। আবাসে পাওয়া ৬০ হাজার টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলে বেপাত্তা সুস্মিতা। প্রেমিকের সঙ্গে নতুন ঘর বাঁধতে গিয়ে স্বামীর ঘর ভাঙলেন তিনি। স্বামীর জমানো আরও ৬০ হাজার টাকা গিয়েছেন বলে অভিযোগ। 
Advertisement
স্ত্রীর এমন কাণ্ডে অথৈ সাগরে অসিত। পাকাবাড়ি তৈরি করা নিয়ে আতান্তরে তিনি। নন্দীগ্রাম থানায় জেনারেল ডায়েরি করেই ছুটেছেন বিডিও অফিসে। ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে তাঁর কাতর আর্জি—‘আপনাদের দেওয়া টাকা তুলে স্ত্রী নিখোঁজ। এই অবস্থায় পাকাবাড়ি তৈরির কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবেন।’
হায়দরাবাদে সেন্টারিংয়ের কাজ করেন অসিত। ২০১৬ সালে ভেটুরিয়া গ্রামের যুবতী সুস্মিতার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দম্পতির সাত বছর ও পাঁচ বছরের দুই মেয়ে রয়েছে। স্বামী ভিনরাজ্যে কর্মরত থাকাকালীন গত ৭ জানুয়ারি সুস্মিতা দুই মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি যান। সেখানে তাদের রেখে হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আধারকার্ড জমা দেওয়ার নাম করে বেরিয়ে পড়েন। তারপর ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে বেপাত্তা। খবর পেয়ে ওই যুবক ১০ জানুয়ারি বাড়ি ফেরেন। মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম থানায় স্ত্রী নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি বাড়ি তৈরির অক্ষমতার কথা জানিয়ে নন্দীগ্রাম-১বিডিও অফিসে আবেদনও করেছেন।
জানা গিয়েছে, ওই বধূর সঙ্গে রেয়াপাড়ার এক যুবকের ফোনে গল্পগুজব হতো। গত ৭ জানুয়ারি থেকে দু’জনেরই খোঁজ নেই। অনুমান, ওই যুবকের হাত ধরে আবাস উপভোক্তা ওই বধূ পালিয়েছেন। তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা ঢুকেছে। কাঁচাবাড়ি পাকা করার জন্য ওই যুবক ভিন রাজ্যে সেন্টারিংয়ের কাজ করে তিলে তিলে টাকা জমিয়েছিলেন। আবাসের টাকার সঙ্গে স্বামীর কষ্টার্জিত জমানো কিছু টাকাও নিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।  
আক্ষেপের সুরে বুধবার অসিত বলছিলেন, ‘আবাসের টাকা ঢোকার পরই স্ত্রী পাকাবাড়ি তৈরির নাম করে আমাকে বার বার টাকা চাইত। আমি কয়েক দফায় স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলাম। ৭ জানুয়ারি বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার দিন সকালেও ১৫ হাজার টাকা দিই। এভাবে আমার পাঠানো ৬০ হাজার টাকা এবং আবাসে পাওয়া আরও ৬০ হাজার টাকা মিলে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। রেয়াপাড়ার এক যুবকের সঙ্গে ফোনে ঘনিষ্ঠতা ছিল। ওই যুবকের হাত ধরে বেরিয়ে গিয়েছে বলে অনুমান করছি।’ সুস্মিতার কীর্তিতে হতবাক হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ‌জয়নব বিবিও। তিনি এদিন বলছিলেন, ‘বনশ্রী গৌরী গ্রামের ওই বধূর অ্যাকাউন্টে আবাসের ৬০ হাজার টাকা ঢুকেছিল। ওই টাকা তুলে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছেন। এক যুবকের সঙ্গে পালিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আমরা বিষয়টি জানার পর বিডিও-র নজরে আনি। এরপর ওই বধূর স্বামী বিডিও অফিসে গিয়ে এনিয়ে একটি আবেদন জানিয়েছেন।’ নন্দীগ্রাম-১ বিডিও সৌমেন বণিক বলেন, ‘আমরা গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। যেসব আবাস উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে, তাঁরা বাড়ি তৈরির কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছেন। এখন ওই উপভোক্তা বাড়ি করতে না পারলে সমস্যা হবে।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ