Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবাসের টাকা ঢুকলেই দিতে হবে ৩ হাজার

আবাসের টাকা ঢুকলেই দিতে হবে ৩ হাজার
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ঘাটাল: বাংলার বাড়ির টাকা ঢুকলেই পঞ্চায়েত অফিসে জমা দিতে হবে ৩ হাজার টাকা। এমনই ‘ফরমান’ জারি করেছে তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত ঘাটাল ব্লকের দেওয়ানচক-১ গ্রাম পঞ্চায়েত। যাঁরা ওই টাকা দিতে রাজি হচ্ছেন না, তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। টাকা নেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন ওই পঞ্চায়েত প্রধান আসমিনা বিবি। তিনি বলেন, ‘সবার থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয় না। যাঁরা এক কামরার বাড়ি করছেন তাঁদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা আর যাঁরা একাধিক কামরার বাড়ি করছেন তাঁদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তার জন্য আমরা রসিদও দিচ্ছি।’ টাকা নেওয়ার খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিডিও অভীক বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘বাংলার বাড়ি করতে পঞ্চায়েতের অনুমতি লাগে না। আর টাকা দেওয়ার তো কোনও প্রশ্নই নেই। শুধু দেখে নিতে হয় যেখানে বাড়ি করা হবে সেই জায়গাটি বাস্তু কিনা।’ 
Advertisement
দেওয়ানচক-১ গ্রাম পঞ্চায়েতটি একেবারে প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। বেশিরভাগ মানুষই কৃষিজীবী ও দিনমজুর। ওই পঞ্চায়েতের মোট ৪৮৪ জন উপভোক্তার বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নাম উঠেছে। এঁদের মধ্যে অনেকেরই প্রথম কিস্তির টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে গিয়েছে। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্য জানান, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা আসার পরই গ্রাম পঞ্চায়েত নিজস্ব তহবিল বৃদ্ধির জন্য উপভোক্তাদের থেকে টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা বিরোধিতা করলেও আমাদের কথা শোনা হয়নি।
যেহেতু অনেক উপভোক্তা আবাসের টাকার সঙ্গে নিজের টাকা যোগ করে ঘরের সংখ্যা বাড়াচ্ছেন, তাই পঞ্চায়েত ঠিক করেছে, যাঁরা এক কামরার বাড়ি করবেন তাঁদের থেকে এক হাজার টাকা এবং রুমের সংখ্যা বেশি হলে তিন হাজার টাকা করে নেবে। উপভোক্তারা বলেন, প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকার পরই গ্রাম পঞ্চায়েত মিটিং করে আমাদের ওই হারে টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকায় একটি বাড়ি করা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। সেখান থেকে আবার গ্রাম পঞ্চায়েতে টাকা দিতে হলে খুবই চাপ হয়ে যায় বলে উপভোক্তারা জানান। যাঁরা টাকা দিচ্ছেন না, তাঁদের শাসকদলের নেতাকর্মীরা হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ।
তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক তথা ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি বিকাশ কর টাকা নেওয়ার কথা শুনেই বেজায় চটে যান। তিনি বলেন, এভাবে কোনও গ্রাম পঞ্চায়েত টাকা নিতে পারে না। যদি আবাস যোজনার জন্য এভাবে টাকা নেওয়া হয়ে থাকে তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আর কে বা কারা টাকা না দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে, সেটা খোঁজ নিয়ে দলীয় ভাবে পদক্ষেপ করা হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ