Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আবাসের সমীক্ষা চলাকালীন তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হাসনাবাদে

আবাসের সমীক্ষা চলাকালীন তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হাসনাবাদে
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: আবাসের সমীক্ষা চলাকালীন সরকারি আধিকারিকের সামনেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর তুমুল সংঘর্ষ বাধল। সোমবারের এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় হাসনাবাদ পঞ্চায়েত এলাকায়। এদিকে দুই ২৪ পরগনায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পে রাজ্য সরকারের তরফে পাঠানো হয়েছে এক হাজার ২২৪ কোটি টাকা। দুই জেলা থেকে মোট চারজন উপভোক্তার হাতে টাকার চেক তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া প্রতি উপভোক্তার নম্বরে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাবে নবান্ন।
Advertisement
জানা গিয়েছে, শেষবেলায় সোমবার হাসনাবাদ পঞ্চায়েত এলাকায় ২৫ নম্বর গ্রামসভায় ঘরের তালিকা নিয়ে সমীক্ষায় আসেন সরকারি প্রতিনিধিরা। আর তা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। তৃণমূলের যুব সভাপতি আবু সাদেক গাজি সরকারি আধিকারিকদের পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তখন তৃণমূলের অপর গোষ্ঠী তথা হাসনাবাদ পঞ্চায়েতের সদস্য মালেক গাজির গোষ্ঠীর লোকেরা বচসায় জড়িয়ে পড়েন। শুরু হয় মারধর। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারধর ও গণ্ডগোল হয়। হাসনাবাদ থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই বিষয়ে যুব সভাপতি আবু সাদেক গাজির স্ত্রী রুকসানা বিবি বলেন, আচমকা কয়েকজন ব্যক্তি স্বামীকে মারধর করেন। এর পিছনে কী কারণ রয়েছে জানি না। আমি গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। 
অন্যদিকে, হাসনাবাদ পঞ্চায়েতের সদস্য মালেক গাজি বলেন, সরকারি আধিকারিকদের সমীক্ষায় প্রভাবিত করছিলেন যুব সভাপতি। গ্রামবাসীরা উত্তেজিত হয়ে প্রতিবাদ করেন। আর তখনই ওর লোকজন মারধর করে। এই বিষয় হাসনাবাদ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ও হাসনাবাদ ব্লকের সভাপতি এসকেন্দার গাজি বলেন, বিষয়টি শুনলাম, খোঁজখবর নিয়ে দেখব।
দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত বাংলার মানুষ। আবাসের টাকা থেকে বঞ্চিত বাঙালিরা। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও এবার আবাসের টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। আজ, মঙ্গলবার থেকে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করবে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ৫৬ হাজার উপভোক্তা প্রথম পর্যায়ের ৬০ হাজার টাকা পাবেন। জেলায় ৩৩৭ কোটি টাকা এসেছে। ট্রেজারি মারফত জেলার ২২টি ব্লকে টাকা পৌঁছেও গিয়েছে। টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে যাতে কোথাও ফাঁকফোকর না থাকে, তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করেছে দপ্তর। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ৮৮৭ কোটি টাকা এসেছে। উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৪৩ হাজার। আজ থেকে সেই টাকা দেবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি উপভোক্তাদের মোবাইল নম্বরে পোঁছবে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা। সেখানে লেখা থাকবে, রাজ্য সরকার আবাসের টাকা প্রদান করছে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ ‘মাস্টারস্টোক’ বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।
সম্পর্কিত সংবাদ