সংবাদদাতা, লালবাগ: আবাস যোজনার ঘরের টাকা পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে টাকা হাতানোর চেষ্টার অভিযোগে পুলিস এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে নবগ্রাম থানার নারায়ণপুর পঞ্চায়েতের কালিকাডাঙা রাইসমিল পাড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম অরুণ ঘোষ। তার বাড়ি ভগবানগোলা থানার বড়বড়িয়া বলে জানা গিয়েছে। নবগ্রাম থানার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, গ্রামবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেই বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে অরুণ ঘোষ নামে ওই ব্যক্তি কালিকাডাঙা রাইসমিল পাড়ায় গিয়ে নিজেকে নবগ্রাম ব্লকের একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। অভিযোগ, বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীর বাড়ি গিয়ে বলে তাদের আবাসের টাকা এসে আটকে রয়েছে। ওই টাকা পেতে হলে উপভোক্তাদের প্রত্যেককে তাদের আধার, ভোটার কার্ড জেরক্স এবং ১৬৬০ টাকা করে তাকে জমা দিতে হবে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তখন গ্রামবাসীরা ফোন করেন পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম মণ্ডলকে। খবর পেয়েই পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ছুটে আসেন। তাঁদের জেরার মুখে ওই ব্যক্তি কার্যত স্বীকার করে, সে নবগ্রাম ব্লক বা অন্য কোনও সরকারি দপ্তরে কাজ করে না। আবাসের উপভোক্তাদের থেকে টাকা হাতানোর উদ্দেশ্যে সে এই পরিকল্পনা করেছিল। এরপরেই প্রধান নবগ্রাম থানায় ফোন করে পুরো বিষয়টি জানান। পুলিস এসে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যায়। রাইসমিল পাড়ার বাসিন্দা সঞ্জয় মণ্ডল, সর্বাণী মণ্ডল বলেন, প্রধান আমাদের বলেছিলেন, আবাসের ঘরের টাকার জন্য কাউকে কোনও টাকাপয়সা দেবেন না। কেউ যদি টাকাপয়সা চাইতে আসে, তাহলে আমায় খবর দেবেন। সেই কারণে ওই ব্যক্তি নিজেকে ব্লকের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে টাকা চাইতেই সন্দেহ হয়। তখন বিষয়টি ফোন করে প্রধানকে জানাই। যমুনা মণ্ডল বলেন, আধার, ভোটার কার্ড এবং টাকা নিয়ে সোমবার ব্লক অফিসের ১ নম্বর ঘরে দেখা করার জন্য বলে। প্রধান উত্তম মণ্ডল বলেন, আবাস যোজনার ঘরের জন্য উপভোক্তাদের কাউকে কোনও টাকা দিতে হয় না। অথচ ঘরের টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য টাকা চাইছে, এটা শোনার পরেই ছুটে যাই। প্রতারণা চক্রে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আর কারা রয়েছে, পুলিস তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। প্রসঙ্গত, গত ২০ জানুয়ারি লালবাগে প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, আবাস প্রকল্পের জন্য কাউকে একটি পয়সাও দেবেন না। কেউ চাইলে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় থানায় খবর দিন।



