বাইরে অস্বিস্তকর গরম। তার উপরে মাঝে মাঝেই আকাশের মুখ ভার। বৃষ্টি নামল বলে। কালবৈশাখী বিদায় নিলে পাকাপাকিভাবে বর্ষা আসবে। আর এই সময় নিত্যদিনের একটাই সঙ্গী—ছাতা। তবে এই ছাতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস। অবাক হলেন? তাহলে একটু অতীতে ফেরা যাক।
ল্যাটিন শব্দ ‘আমব্রা’ থেকে এসেছে আমব্রেলা শব্দটি। যার অর্থ ছায়া বা আশ্রয়। সেই পুরাণে ভগবান বিষ্ণুর বামন অবতারের মাথায়ও ছাতা দেখা যায়। ইতিহাস ঘাঁটলে প্রায় চার হাজার বছর আগের গ্রিস ও চীনের চিত্রকর্মে ছাতার হদিশ মেলে। পরের দিকে মিশরীয় চিত্রলিপি, সমাধি ও মন্দিরে আঁকা ছবিতেও রয়েছে ছাতার অস্তত্ব। ইতিহাস গবেষকদের ধারণা, তাঁবুর নির্মাণশৈলী থেকেই ছাতা তৈরির ভাবনা আসে। তবে তখনকার ছাতার ওজন ছিল অনেক বেশি। হাতল তৈরি হতো কাঠ, তিমি মাছের কাঁটা বা পশুর হাড় দিয়ে। কাপড়, চামড়া এবং কাগজ দিয়ে তৈরি করা হতো ছাতার মূল অংশ। তার উপর তেল ও মোম মাখিয়ে দেওয়া হতো। যাতে জল পড়ে ছাতা নষ্ট না হয়ে যায়। কয়েক শতক পেরিয়ে মেসোপটেমিয়া সভ্যতা, পর্যটক ইবন বতুতার রচনাতেও এর উল্লেখ মেলে। তবে শুরুর দিকে ছাতার ব্যবহার শুধুমাত্র অভিজাত সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বিশেষ করে সম্ভ্রান্ত পরিবারের মহিলারাই ছাতা ব্যবহার করতেন। ১৭০০ খ্রিস্টাব্দের পরের দিকে ছাতা আমজনতার দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে ওঠে।
১৮৩০ সালে চালু হয় প্রথম ছাতার দোকান। নাম ‘জেমস স্মিথ অ্যান্ড সন্স’। ১৮৫০ সালে স্যামুয়েল ফক্স নামে এক ইংরেজ শিল্পপতি ছাতায় স্টিলের ব্যবহার শুরু করেন। ১৮৫২ সালে সুইচের সাহায্যে ছাতা খোলার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন ফরাসি ব্যক্তি গেজ। এভাবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছাতার চেহারায় আধুনিকত্বের ছোঁয়া লাগে। আর তা মিশে যায় আমাদের রোজকার জীবনে।