Bartaman Logo
৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রক্ষাকবচ পেয়ে সিআইডি’তে হাজিরা, অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিতকে ১০ ঘণ্টা জেরা

তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল বেঙ্গল এসটিএফ, সিআইডি ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। কিন্তু তৃণমূলের সেনাপতির আপ্ত সহায়কের নাগাল পায়নি পুলিশ। সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ দিতেই শালবনীতে সরকারি জমি দখলের মামলায় সিআইডির নোটিস পেয়ে শনিবার ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন সুমিত রায়।

রক্ষাকবচ পেয়ে সিআইডি’তে হাজিরা, অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিতকে ১০ ঘণ্টা জেরা
  • ৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল বেঙ্গল এসটিএফ, সিআইডি ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। কিন্তু তৃণমূলের সেনাপতির আপ্ত সহায়কের নাগাল পায়নি পুলিশ। সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ দিতেই শালবনীতে সরকারি জমি দখলের মামলায় সিআইডির নোটিস পেয়ে শনিবার ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন সুমিত রায়। ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা বারবার জানতে চাইলেন, মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার কাছ থেকে কার মাধম্যে টাকা ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছত। তিনি গোটা বিষয়টি অস্বীকার করছিলেন বলে সিআইডি সূত্রে খবর। এই পর্বে সুজয়ের সঙ্গে এই সংক্রান্ত চ্যাট দেখানোর পর চুপ করে যান অভিষেকের আপ্ত সহায়ক। তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। ভিডিওগ্রাফি করা হয় গোটা জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব।

Advertisement

পালাবদলের পর পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন শালবনী থানা এলাকায় জাতীয় সড়কের ধারে থাকা সরকারি জমি ভুয়ো নথি তৈরি করে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি ওই জমি কেনার জন্য সার্চিং করাতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় ভুয়ো নথি তৈরির মূল মাথা তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরা। তিনি কোটি কোটি টাকা রোজগার করেছেন। জালিয়াতি, প্রতারণার কেস রুজু করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে শালবনি থানা। তাঁর হোযাটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটে জড়িত এমপি অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। সুজয়ের চ্যাট থেকে উঠে আসে, তিনি টাকা পাঠাতেন ক্যামাক স্ট্রিটে। এই বিষয়ে সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলেও তাঁকে পাননি তদন্তকারীরা। পরে তদন্তভার নেয় সিআইডি। এরই মাঝে সুমিত দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত রক্ষাকবচ দেওয়ার পর তিনি এদিন সিআইডি এর নোটিস মত বেলা দশটা নাগাদ হাজির হন ভবানী ভবনে। তদন্তকারীরা জানতে চান, তিনি কোথায় ছিলেন? জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান কলকাতায় ছিলেন। তিনি কোথাও পালিয়ে যান নি। আদালতে গিয়ে যে কেউ বিচার চাইতে পারেন। সেটাই তিনি করছিলেন। সেই কারণে হাজির হন নি। আদালত রক্ষা কবচ দেওয়ার পর তিনি এসেছেন। এরপর সুজয় হাজরার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তাঁকে  প্রশ্ন করা হয়, শালবনীতে জমি কেলেঙ্কারির বিষয় জানেন? সুমিত না বলা মাত্রই  জমির ভুয়ো নথি নিয়ে সুজয়বাবুর সঙ্গে তাঁর হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট সামনে আনলে, গুটিয়ে যান সুমিত। একইভাবে টাকা আসার বিষয়টি অস্বীকার করলে, ফের এ সংক্রান্ত হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট তুলে ধরা হয়। যাতে  উল্লেখ রয়েছে সুজয় নিজে ক্যামাক স্ট্রিটে টাকা পৌঁছে দিয়ে এসেছে। আজ রবিবার সুমিতকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে সিআইডি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ