


নয়াদিল্লি: বিশ্বকাপের আগে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিপুল প্রত্যাশা। তিনিই যেন দলের আশা-ভরসা। গত এক বছরের বেশি সময় ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে কার্যত একাই টেনেছিলেন টিম ইন্ডিয়াকে। কিন্তু মেগা টুর্নামেন্টের শুরুতে ধারাবাহিক ব্যর্থতার জেরে সেই অভিষেক শর্মাই হয়ে ওঠেন দলের মাথাব্যথার কারণ। একটা সময় বাদ দেওয়ার দাবিও উঠতে শুরু করেছিল। প্রবল চাপে পড়ে গিয়েছিলেন বাঁ হাতি ওপেনার। নড়ে গিয়েছিল ফোকাস। প্রথম দুই ম্যাচের মতো তৃতীয় ম্যাচেও খাতা খুলতে পারেননি। টি-২০ বিশ্বকাপে শূন্যের হ্যাটট্রিক— লজ্জার নজির সঙ্গী হয়েছিল অভিষেকের। এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়ান কোচ ও ক্যাপ্টেন। তাঁদের পরামর্শ মেনেই গলি থেকে রাজপথে ফেরা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কাহিনি শুনিয়েছেন অভিষেক, ‘পর পর দুই ম্যাচে শূন্যতে আউট হওয়ার পর হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তবুও টিম ম্যানেজমেন্ট ভরসা রেখেছিল এটা ভেবে যে, নেদারল্যান্ডস ম্যাচে রান পাব। কিন্তু সেটা হয়নি। আবারও মাঠ ছেড়েছিলাম খালি হাতে। ড্রেসিং-রুমে ফিরে সত্যিই ভেঙে পড়েছিলাম। চারিদিকে অন্ধকার। তখন কোচ গৌতম গম্ভীর, ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব এবং হার্দিক ভাই আমার সঙ্গে কথা বলে। ওদের পরামর্শ ছিল, এখনই যেন ফোন থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার সব অ্যাকউন্ট মুছে ফেলি।’ সেই কাজটা অবশ্য আগেই করেছিলেন অভিষেক। বাঁ হাতি ওপেনার জানান, ‘দ্বিতীয় শূন্য করার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ার সব অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছিলাম। ফোনেও হাত দিইনি। কারণ, তখন নিজেকে আরও বেশি সময় দেওয়া জরুরি ছিল। জানতাম, খারাপ খেললে সমালোচনা হবে। অবশ্য এটার সঙ্গে এখন অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। তবু অনেক সময় সমালোচনা মনে প্রভাব ফেলে। ফোকাস নড়িয়ে দেয়। তাই বিশ্বকাপের সময় ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকাটা জরুরি হয়ে পড়েছিল।’ উল্লেখ্য, ফাইনালে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন অভিষেক। হাঁকিয়েছিলেন ঝোড়ো ৫৫ রান।