


সংবাদদাতা, বেলদা: বুধবার দাঁতনের ঘোলাই মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাকে কেন্দ্র করে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টায় আয়োজিত এই জনসভাকে ঘিরে এখন সাজ সাজ রব পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে। এই সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আদিবাসী সংস্কৃতি ও জনজাতি সমাজকে। প্রায় একশো জন আদিবাসী যুবক ও মহিলা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে নিজস্ব নৃত্যের মাধ্যমে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’কে স্বাগত জানাবেন। আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূলত দাঁতন ও কেশিয়াড়ি বিধানসভার দুই প্রার্থী মানিক মাইতি ও রামজীবন মাণ্ডির সমর্থনে এই বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। দাঁতন ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মনিশঙ্কর মিশ্র জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সেনাপতি এবং এই সফর দলীয় কর্মীদের জন্য আগামী এক মাসের লড়াইয়ের ‹অক্সিজেন› হিসেবে কাজ করবে। বুধবারের এই সভায় দাঁতন, কেশিয়াড়ি, মোহনপুর এবং দাঁতন ২ নম্বর ব্লক মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের জমায়েত আশা করছে শাসকদল। এর মধ্যে শুধুমাত্র দাঁতন ১ নম্বর ব্লক থেকেই প্রায় ১৫ হাজার কর্মী-সমর্থক হাজির থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। তৃণমূল যুব ও ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকেও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কয়েকহাজার কর্মী ‘জয় বাংলা’ এবং ‘আই লাভ এবি’ লেখা গেঞ্জি ও ব্যানার নিয়ে সেনাপতিকে বরণ করে নিতে মিছিলে শামিল হবেন। এলাকার উন্নয়নে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ ভূমিকার কথা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে স্থানীয় নেতৃত্ব। গত নির্বাচনের সময় তিনি এই এলাকায় ৫০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যার অধিকাংশ কাজই ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাস্তাঘাট ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এবারের সভা থেকে নতুন কোনো বড় ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই সাগ্রহে তাকিয়ে রয়েছেন দাঁতন ও কেশিয়াড়িবাসী। সভার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্লক প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।