Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সড়ক, পানীয় জলের সমস্যা মিটিয়েছেন, দাবি অভিজিতের

কৃষিপ্রধান এলাকা ময়ূরেশ্বর। এবার নির্বাচনে এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল টানা দু’বারের বিধায়ক অভিজিৎ রায়কে ফের প্রার্থী করেছে।

সড়ক, পানীয় জলের সমস্যা মিটিয়েছেন, দাবি অভিজিতের
  • ২৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: কৃষিপ্রধান এলাকা ময়ূরেশ্বর। এবার নির্বাচনে এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল টানা দু’বারের বিধায়ক অভিজিৎ রায়কে ফের প্রার্থী করেছে। এবারও তাঁর প্রচারের হাতিয়ার উন্নয়ন। বিধায়ক হিসেবে তিনি পাঁচ বছরে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। যার পুরোটাই তিনি খরচ করতে পেরেছেন। কী দাবিদাওয়া ছিল, কী কাজ হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা চলছে এলাকায়।

Advertisement

একসময় ময়ূরেশ্বর ছিল সিপিএমের ঘাঁটি। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল ঘটলেও এই কেন্দ্র দখলে রেখেছিল সি‌পিএম। ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে প্রথমবার বিধায়ক হন অভিজিৎ রায়। তাঁর দাবি, গত পাঁচ বছরে বিধায়ক তহবিলের টাকায় বেশকিছু রাস্তা করেছেন। একাধিক গ্রামে সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে পানীয় জলের সমস্যা দূর করেছেন। বিধানসভার বিভিন্ন জনবহুল মোড়ে হাইমাস্ট লাইট বসানো হয়েছে। বেশকিছু গ্রামে রাতে সাধারণ মানুষের পথচলার সুবিধার্থে পথবাতি বসানো হয়েছে। বিধায়ক তহবিলের ১৫ লক্ষ টাকায়  লোকপুর কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়ন করেছেন। মল্লারপুর ব্লক ও বাসুদেবপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৮লক্ষ টাকা ব্যয়ে পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছেন। বাজিতপুর হাইস্কুলে অডিটোরিয়াম কাম জিম সেন্টার তৈরি হয়েছে। সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে একাধিক গ্রামে সেচের ব্যবস্থা ছাড়াও বহু নিকাশি নালা নির্মাণ করেছেন। বিধায়ক বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে দরবার করে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তাঁর চেষ্টায় মল্লারপুর হাইস্কুল মাঠে স্টেডিয়াম হয়েছে। মানুষের পারাপারের সুবিধার্থে সোঁজ গ্রামে দ্বারকা নদের উপর ব্রিজ নির্মাণ হয়েছে। মহুরাপুরে পুকুর ঘিরে মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য পার্ক সহ প্রথশ্রী প্রকল্পে ৫০টিরও বেশি রাস্তা হয়েছে। তিনি বলেন, গত নির্বাচনের তুলনায় এবার জয়ের ব্যবধান বাড়বে। আগামী দিনে ময়ূরেশ্বর-১ ব্লকে একটি হিমঘর, ঝিকোড্ডা গ্রামের বিল ঘিরে ও মেটেলডাঙা গ্রামের উষ্ণ প্রস্রবণকে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার চেষ্টা করব। সেইসঙ্গে সেচ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন সহ মল্লারপুর ব্লক ও বাসুদেবপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্টেট জেনারেল হাসপাতাল স্তরে উন্নতির জন্য চেষ্টা চালাব। 
এলাকার বিজেপি নেতা তথা এই কেন্দ্রের প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল বলেন, বিধায়ক তহবিলের অত টাকা যে খরচ হয়েছে তার কোনও উন্নয়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি না। অধিকাংশ রাস্তাই খারাপ। ময়ূরেশ্বরে পাড়ায় সমাধানে দু’টি কালভার্ট ধরা হয়েছিল। সেটা না করে দলের নেতার কথামতো অন্য জায়গায় টাকা খরচ করা হয়েছে। কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। শুধু সরকারি টাকা লুট হচ্ছে। ময়ূরেশ্বর গ্রামে জলজীবন মিশন প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। পঞ্চায়েতের ফান্ড থেকে কিছু সাবমার্সিবল বসেছে। ভোট এলে বিধায়কের দেখা মেলে। বাকি সময় খুঁজে পাওয়া যায় না। মানুষ এবার এই কেন্দ্রে পরিবর্তন চাইছে। 
এলাকার সিপিএম নেতা অরূপ বাগ বলেন, এখানে উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নয়ন হয়নি। নতুন কোনও রাস্তা হয়নি। চাপা গ্রাম থেকে বিলাসপুর, খরাসিনপুর থেকে কালীতলা, মল্লারপুরের বটতলা থেকে বিরাজপুর, এমন অসংখ্য রাস্তা রয়েছে যেগুলি আমাদের সময় গ্রাম সড়ক যোজনায় করা হয়েছিল। সংস্কারের অভাবে সেই রাস্তাগুলি বর্তমানে বেহাল। কৃষিনির্ভর এলাকা অথচ কৃষকদের স্বার্থে কোনও প্রকল্প হয়নি। শুধু ভাতা দিলেই কী সামগ্রিকাভাবে কৃষকদের জীবন জীবিকায় মান উন্নয়ন হয়? চাকিরা আলুর নায্য মূল্য পাচ্ছেন না। অথচ সরকারি মূল্যে আলু কেনা নিয়ে বিধায়কের কোনও উচ্চবাচ্য নেই। মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কমে এসেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ