সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: জগৎবল্লভপুরের চাঁদুল ব্রাহ্মণপাড়ার চক্রবর্তী বাড়িতে দুর্গাপুজোর আয়োজন শুরু হলেই ফিরে আসে কয়েকশো বছরের পুরানো ঐতিহ্য। পুজোর বয়স বহু আগেই ৩০০ বছর পেরিয়েছে। ঠিক কত বছর ধরে এই পুজো হচ্ছে, তার হিসাব অবশ্য পরিবারের কাছেও নেই। তবে প্রজন্ম বদলেছে, সময় বদলেছে, বদলায়নি পুজোর বহু পুরানো রীতিনীতি। বৈদিক নিয়মে পুজো হলেও সন্ধিপুজোয় আজও অনুসরণ করা হয় তন্ত্র মত। রয়েছে নবমীতে পশুবলির প্রথাও।
চক্রবর্তী পরিবারেস্ব ঠাকুরদালানেই তৈরি হয় প্রতিমা। জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজোর মাধ্যমে শুরু হয় প্রতিমা গড়ার কাজ। এই পরিবারের দেবী আবার চিরাচরিত দশভুজা নন। একচালার প্রতিমায় তিনি চতুর্ভুজা। চার হাতে থাকে খড়গ, চক্র, ত্রিশূল ও সাপ। কয়েক বছর আগে কাঠ, বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি ঠাকুরদালানের বদলে তৈরি হয়েছে পাকা ইটের দালান। সেখানে দুর্গাপুজোর পাশাপাশি হয় কালীপুজো। তবে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর জন্য এই দালান ব্যবহার করা হয় না। পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে আলাদা করে সেই পুজো হয়।
আদি রীতি মেনে মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ থেকেই শুরু হয় দুর্গাপুজো। ষষ্ঠীতে বোধন। সেদিন থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন হয় চণ্ডীপাঠ। সপ্তমী থেকে নবমী— তিনদিনই দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১২ কেজি চালের অন্নভোগ রান্না হয়। পরিবারের মহিলারাই রান্নার দায়িত্বে থাকেন। সপ্তমী ও নবমীতে অন্নভোগের সঙ্গে মাছ ও মাংসের পদ থাকে। অষ্টমীতেও আমিষ ভোগ দেওয়া হয়, তবে সেদিন থাকে মাছের পদ। পরিবারের সদস্য তথা পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা নবকুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘পুজো বৈদিক রীতি মেনেই হয়। তবে সন্ধিপুজো তন্ত্র মতে করার রীতি বহুকাল ধরেই চলে আসছে।’
চক্রবর্তীদের পারিবারিক পেশাই হল পৌরহিত্য। ফলে বাড়ির পুজোর পুরোহিতও পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে থেকেই তন্ত্রধারক ও পূজক নির্বাচন করা হয়। এখনও এলাকার বহু বাড়িতে যজমানি করেন এই পরিবারের সদস্যরা। যদিও বর্তমান প্রজন্মের একাংশ অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন। দশমীর সন্ধ্যায় বরণের পর পরিবারের সদস্যরাই কাঁধে করে প্রতিমাকে স্থানীয় জলাশয়ে নিয়ে গিয়ে নিরঞ্জন করেন। পারিবারিক পুজো হলেও পুজোর ক’দিন চক্রবর্তী বাড়ির এই আয়োজন ঘিরে উৎসবে মেতে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা। নিজস্ব চিত্র



